মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাসুদ পেজেশকিয়ান
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাসুদ পেজেশকিয়ান | ছবি: সংগৃহীত
0

কাতার, সৌদি ও আমিরাতের অনুরোধে ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তি না হলে, যেকোনো সময় ইরানে বড় আকারের সামরিক হামলা পরিচালনায় মার্কিন কর্মকর্তাদের আগাম প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেন তিনি। এদিকে জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে তেহরান শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে ভিন্ন ফ্রন্টে লেবাননে চলমান ইসরাইলি হামলায় প্রাণহানি বেড়ে তিন হাজার ছাড়িয়েছে।

তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি ও হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি শর্তের বেড়াজালে আটকে আছে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি। ওয়াশিংটনের শর্ত না মানায় নতুন করে তেহরানে সামরিক অভিযান শুরুর ছক কষতে থাকে পেন্টাগন।

তবে স্বস্তির খবর হলো, সৌদি আরব, কাতার ও আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুরোধে মঙ্গলবার তেহরানে নতুন দফায় হামলার পরিকল্পনা থাকলেও, তা বাস্তবায়ন থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চুক্তি না হলে ইরানে ফের হামলা চালানো হবে বলে আগাম হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এরপর ওয়াশিংটনেও ইস্যুটি নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। দাবি করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ভালো চুক্তির সম্ভাবনা আছে। যেখানে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা চাই না ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করুক। বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে জানিয়েছে। তারা ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইস্যুটি নিয়ে কথা বলছে। মনে হচ্ছে, কোনো একটা সমাধান আসবে। আমরাও চাই, ইরানে বোমাবর্ষণ না চালিয়ে সমাধানে পৌঁছাতে।’

আরও পড়ুন:

এদিকে সোমবার পাকিস্তানের কাছে স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধে ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব দেয়ার পর এক এক্স বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ফের জানান, আলোচনা চালিয়ে যাওয়া মানেই আত্মসমর্পণ নয়। এছাড়াও তেহরানের জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখেই ইসলামি প্রজাতন্ত্র আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন পেজেশকিয়ান।

আর সংঘাতের হট পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ানো হরমুজে শত্রু দেশগুলোর জাহাজ চলাচল বন্ধে একটি আইনি কাঠামো প্রস্তুত করেছে ইরানের পার্লামেন্ট। তেহরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের হয় ইরানের দেয়া শর্ত মানতে হবে, নতুবা তেহরানের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের কাছে নতি স্বীকার করতে হবে।

অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির মাঝেও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। বৈরুতের নতুন নতুন স্থাপনাকে হামলার টার্গেটে পরিণত করছে আইডিএফ।

এছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিন অধ্যুষিত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে আইডিএফ।

এদিকে গাজা অভিমুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার প্রায় ৪৭টি নৌবহরে থাকা ৪৫টি দেশের ৪৬০জনের বেশি মানবাধিকার কর্মী আটকের ঘটনায় ইসরাইলের নৌবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। তবে সাইপ্রাসের আন্তর্জাতিক জলসীমায় মানবিক নৌবহর আটকের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন। আর ইসরাইলের কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে হামাস।

এসএস