এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আদানি গ্রুপের দীর্ঘ ১৯ মাসের এক অনিশ্চয়তার অবসান হলো। মামলার কারণে গোষ্ঠীটির ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং তহবিল সংগ্রহের প্রচেষ্টা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। পৃথকভাবে, ইরান সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগকে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) দিতে রাজি হয়েছে আদানি গ্রুপ। তবে আদানি এন্টারপ্রাইজ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, এই অর্থ পরিশোধের মানে অপরাধ স্বীকার করে নেয়া নয়।
আদালতে জমা দেয়া নথিতে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, প্রসিকিউটরদের বিবেচনায় এই মামলার পেছনে আর বাড়তি কোনো সম্পদ বা সময় ব্যয় না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে আদানিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তারা ভারতে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ পেতে সরকারি কর্মকর্তাদের ২৫ কোটি ডলারের বেশি ঘুষ দেয়ার একটি চুক্তিতে জড়িত ছিলেন এবং এই তথ্য গোপন করে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংকট থেকে উত্তরণে গৌতম আদানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রবার্ট জে জিউফ্রাকে তার আইনি দলে নিয়োগ দিয়েছিলেন। গত মাসে আদানির আইনজীবীরা মার্কিন বিচার বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে একটি প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে বলা হয়, অভিযোগ প্রত্যাহার করা হলে আদানি গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এবং ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
সব মিলিয়ে ফৌজদারি অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ায় আদানির জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবসা সম্প্রসারণের পথ আবার সুগম হলো। গৌতম আদানি ও সাগর আদানি ছাড়াও বিনিত জৈন, রঞ্জিত গুপ্তসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এই আইনি প্রক্রিয়া চলছিল, যা এখন স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেল।





