মমতা পদত্যাগ না করলে কী ঘটবে?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ছবি: সংগৃহীত
0

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পরও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে রাজ্যে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকটের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত করতে ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কারচুপির অভিযোগ তুলে ‘পদত্যাগ করবেন না’ বলে সাফ জানিয়ে দেয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—এখন তবে কী ঘটবে? টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এসব আলোচনায় উঠে এসেছে।

সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস তার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। যেহেতু বিজেপি ২০৭টি আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, তাই রাজ্যপাল মমতাকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিতে পারেন অথবা মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়ার সুপারিশ করতে পারেন। মমতা অনড় থাকলে রাজ্যপাল তাকে বরখাস্ত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাতে পারেন। সেক্ষেত্রে ৬ মে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রাজ্যে ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মমতার এই অনড় অবস্থান আসলে একটি রাজনৈতিক কৌশল। তিনি রাজভবনে না গিয়ে আইনি লড়াই এবং রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে বিজেপির জয়ের নৈতিকতাকে চ্যালেঞ্জ করতে চান। এর মাধ্যমে তিনি ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের পাশে নিয়ে কেন্দ্রের ওপর চাপ তৈরি করার পরিকল্পনা করছেন। 

তবে প্রশাসনিকভাবে বিজেপির সরকার গঠন ঠেকিয়ে রাখা তার জন্য কঠিন হবে। কারণ, সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে বিজেপি সরকার গঠনের সব আইনি যোগ্যতা অর্জন করেছে। আগামী ৯ মে শপথ গ্রহণের যে গুঞ্জন রয়েছে, মমতার পদত্যাগ বিলম্বিত হলে তাতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এএম