আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, সুদসহ প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কনসোলিডেটেড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড প্রসেসিং অব এন্ট্রিস রিফান্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ যাচাই করে তা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।গত ৪ আগস্ট মার্কিন কাস্টমস কর্মকর্তাদের দাখিল করা নথি অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত এই অর্থ ফেরতের হিসাব সম্পন্ন হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট গত ফেব্রুয়ারিতে যে শুল্কগুলো বাতিল করেছিল, সেগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মোট ১৬৬ বিলিয়ন ডলার আদায় করেছিল। সে হিসাবে ফেরত দেয়া অর্থ মোট আদায়ের অর্ধেকেরও বেশি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমালোচনা ও আইনি চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও শুল্ককে তার বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। তবে এই অর্থ ফেরত নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, শুল্ক ফেরতের সুবিধা সাধারণ মার্কিন ভোক্তারা পাননি। পুরো অর্থই আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর কাছে গেছে। ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ কাসার বলেন, ‘ট্রাম্প এই ফেরতের অর্থ কোম্পানিগুলোকে দিচ্ছেন, শ্রমজীবী মানুষকে নয়। এই অর্থের প্রতিটি সেন্ট মার্কিন ভোক্তাদের কাছে ফিরে যাওয়া উচিত।’
গত ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের অধিকাংশ বিস্তৃত শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালত রায়ে বলেন, ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট প্রেসিডেন্টকে একতরফাভাবে বাণিজ্য অংশীদারদের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।
রায়ের পর ট্রাম্প আদালতের বিচারকদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে মন্তব্য করেন এবং অন্য একটি আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে অস্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপ করেন। পরে তিনি ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে আরও একটি বৈশ্বিক শুল্ক প্যাকেজ ঘোষণা করেন। এই ধারার উদ্দেশ্য হলো অন্য দেশের অন্যায্য বা বৈষম্যমূলক বাণিজ্যিক আচরণের জবাব দেয়া। শুল্ক নীতি নিয়ে আইনি লড়াই অব্যাহত থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই ধরে রেখেছে।





