যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা; পর্দার আড়ালে দূতিয়ালি করছে পাকিস্তান

ইসলামাবাদের রেড জোন এলাকায় নজরদারি করছেন এক সেনা সদস্য
ইসলামাবাদের রেড জোন এলাকায় নজরদারি করছেন এক সেনা সদস্য | ছবি: সংগৃহীত
0

সরাসরি বৈঠক থমকে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পর্দার আড়ালে ‘ব্যাকচ্যানেল’ বা গোপন দূতিয়ালি চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ইসলামাবাদ দুই দেশের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মতে, এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারের পাশাপাশি খোদ পাকিস্তানের জ্বালানি আমদানির ব্যয় তিন গুণ বেড়েছে। ফলে তারা বর্তমান তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধবিরতিকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে একটি সংশোধিত প্রস্তাব তাকে দেয়া হয়েছে, যা তিনি ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেবেন।

গত এপ্রিলে ইসলামাবাদে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সারারাত বৈঠক করলেও কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। যুক্তরাষ্ট্র মাঝপথে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যায় এবং ইরানও পরবর্তীতে আর সরাসরি বৈঠকে বসতে রাজি হয়নি। এই অচলাবস্থা কাটাতে পাকিস্তান এখন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। জাপানের মতো দেশগুলোকে এই শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার পাশাপাশি তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ খান জানান, ইসলামাবাদের হস্তক্ষেপেই দুই সপ্তাহের প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়াতে রাজি করানো হয়েছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো—উভয় পক্ষকে হরমুজ প্রণালি থেকে পাল্টাপাল্টি অবরোধ তুলে নিতে রাজি করানো। তবে ট্রাম্প মনে করছেন অবরোধ বোমাবর্ষণের চেয়ে বেশি কার্যকর, অন্যদিকে মুজতবা খামেনি হরমুজ নিয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ১০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখা এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানের বন্ধুরাষ্ট্র রাশিয়ার কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে একটি মধ্যস্থতা হতে পারে। এ বিষয়ে ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যেও আলোচনা হয়েছে। তবে ইরান এখনো তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছাড়তে রাজি হয়নি।

পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব রিজিওনাল স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট জওহর সেলিম বলেন, ‘ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনা দীর্ঘায়িত করার কৌশল যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি ওয়াশিংটনকেও বুঝতে হবে যে কেবল চাপ দিয়ে ইরানের কাছ থেকে সব দাবি আদায় করা সম্ভব নয়। একটি সফল চুক্তির জন্য উভয় পক্ষের জয় নিশ্চিত হয় এমন সমাধান প্রয়োজন।’

এএম