মানবিক সংকটের মুখে লেবানন ও গাজা, তীব্র হতে পারে খাদ্য সংকট

লেবানন
লেবানন | ছবি: সংগৃহীত
0

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরাইলের দস্যুপনায় মানবিক সংকটের মুখে লেবানন ও গাজা। ক্রমাগত হামলা, গণ-উচ্ছেদ এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে শুধুমাত্র লেবাননেই ১২ লাখেরও বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন। আর আগস্ট মাসের মধ্যে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে। এদিকে, অবরুদ্ধ গাজায় ত্রাণ পরিবহণের জন্য সীমান্ত পুরোপুরি খুলে না দেয়ায় খাদ্য সংকটে পড়েছে সেখানকার বাসিন্দারা।

শোকাহত বাবা তার আদরের কন্যাকে শেষবারের মতো কোলে নিয়ে বিদায় জানাচ্ছেন। বাকরুদ্ধ পিতা বারবার আদর করছেন তার ঘুমন্ত পরীকে। লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের বর্বর হামলায় নিহত হয় চার বছরের কম বয়সী মিলা ও তার মা।

যুক্তরাষ্ট্রের মদদে ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইসরাইল। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ক্ষমতার জানান দিতে তথাকথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষ অব্যাহত রেখেছে তেলআবিব। আর চলমান এ যুদ্ধের প্রভাবে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে লেবানন। দেশটিতে কমপক্ষে ১২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বর্তমানে চরম খাদ্য সংকটে ভুগছেন বলে এ বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং লেবাননের কৃষি মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়েছে, চলতি বছর এপ্রিল থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। ক্রমাগত হামলা, গণ-উচ্ছেদ এবং চরম অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। এদিকে লেবাননের সঙ্গে কোন ধরণের যুদ্ধবিরতি চলছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইসরাইলি প্রতিরক্ষাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়েল জামির। বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। সেনাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উত্তর ইসরায়েলের জনপদগুলো থেকে সরাসরি ও পরোক্ষ হুমকি দূর করা বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি।

আরও পড়ুন:

শুধু লেবাননই নয়, মানবিক সংকটে পড়েছে অবরুদ্ধ গাজাও। এখানে কয়েক সপ্তাহ ধরে পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহ হচ্ছে না বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,নিউজে দেখা গেছে, তারা সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়েছে কিন্তু এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। পুরো পৃথিবী মিথ্যা শুনছে। মাত্র ৫০টি ট্রাক এ সীমান্ত পার করতে পারে। এটা আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়

সীমান্ত দিয়ে ট্রাক চলাচলের সংখ্যা কমে যাওয়া মানে হচ্ছে আমাদের সাহায্য ও খাবার কমে যাওয়া। প্রতিমাসে আমরা যে খাবারের পার্সেল পাই তা পুরো মাসে জন্য পর্যাপ্ত না।

তবে, গাজায় ত্রাণ সরবরাহকারী ট্রাকগুলো প্রবেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় শরণার্থী শিবিরগুলোতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং জীবনযাত্রার মান আরও বিপর্যয়কর অবস্থায় পড়বে বলে আশংকা করছে রেড ক্রস। এরইমধ্যে গাজা উপত্যকার নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী প্রকাশিত এ মানচিত্রে উপত্যকার আরও বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নেওয়া হয়েছে। প্রায় এক মাস আগে গোপনে এই মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই মানচিত্রে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির অবস্থান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর এসব অঞ্চলকে নিষিদ্ধ এলাকার মধ্যে ফেলে কমলা রেখা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এই সীমারেখা ইসরাইলি সামরিক বাহিনী যে কোনো সময় পরিবর্তন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইএ