হরমুজ বন্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের চাহিদা বাড়ছে; বলছেন বিশ্লেষকরা

আবিদ মঈন
ফিলিপস ৬৬ ফ্রিপোর্ট টার্মিনালে নোঙর করা তেলবাহী জাহাজ
ফিলিপস ৬৬ ফ্রিপোর্ট টার্মিনালে নোঙর করা তেলবাহী জাহাজ | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার ফলে বিশ্ববাজারে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন জাহাজ চলাচল ও বাণিজ্য বিশ্লেষকরা। গতকাল (মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান নেতৃত্ব ‘শতাধিক জাহাজকে’ টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও আলাস্কার মতো তেলসমৃদ্ধ মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোর দিকে যেতে বাধ্য করেছে। বিবিসি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ট্রাম্প কোন ধরনের জাহাজের কথা বুঝিয়েছেন তা স্পষ্ট না করলেও বিবিসি ভেরিফাইকে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের চাহিদা বেড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের তেল আমদানিকারকেরা হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে না পেরে বিকল্প উৎসের সন্ধান করছেন। সামুদ্রিক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৭১টি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার (ভিএলসিসি) পণ্য খালাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছে। গত বছর এই সময়ে গড়ে প্রতিদিন এমন ট্যাংকারের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৭টি।

আরও পড়ুন:

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আর্গাস মিডিয়ার কর্মকর্তা ডেভিড হেডন বলেন, ‘ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতারা আটলান্টিক বেসিন এবং মার্কিন উপসাগরীয় উপকূল থেকে তেল সংগ্রহকে একটি সহজ সমাধান হিসেবে দেখছেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

সামুদ্রিক গবেষণা সংস্থা ড্রুরি জানিয়েছে, ১০ এপ্রিল শেষ হওয়া সপ্তাহে তেলের চালান প্রতিদিন ৫২ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এএম