বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। প্রায় দুই সপ্তাহের তদন্ত শেষে হাজার পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয় সেই কমিটি। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ এনে বুলবুলের নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাড হক কমিটি গঠন করে এনএসসি।
প্রতিবেদনে বুলবুলের বোর্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাশাপাশি গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। যেখানে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বিসিবির নির্বাচন বিধিমালা ও নির্বাচন কমিশন কাঠামো সংস্কারে মোট ৮টি সুপারিশ উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে বিসিবির সংবিধান সংস্কারে ৪ দফা সুপারিশ তুলে ধরে তদন্ত কমিটি।
তবে সংশোধনের পথে না হেঁটে দায়িত্ব নেয়ার দুই মাসের মাথায় আরও একটি নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে বিসিবি। বর্তমান গঠনতন্ত্রেই নির্বাচন হলে আবারও অনিয়মের শঙ্কা থেকে যায়, মনে করেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।
সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক এ টি এম সাইদুজ্জামান বলেন, ‘গঠনতন্ত্রটা এমন দুটো দিক আছে। একটা হলো গ্রিন লাইট, আরেকটা রেড লাইট। আপনি যদি গঠনতন্ত্রটা সহীহভাবে অনুসরণ করেন, তাহলে হয়তো সম্ভব বিতর্কহীন এক নির্বাচন করার। আবার যদি আপনি রেড লাইনটা দিয়ে যান, আপনি অনেকভাবে ম্যানিপুলেট করতে পারেন কাউন্সিলের সে ম্যানিপুলেট করতে পারেন। এ গঠনতন্ত্রই আপনাকে নানাভাবে সুযোগ করে দিবে যে আপনি কীভাবে রাজনীতিকরণ করবেন। আবার এ গঠনতন্ত্র দিয়েই কিন্তু আপনি চাইলে বিরাজনীতিকরণ বা ক্রীড়ামোদী লোকদেরকে বোর্ডে আনতে পারেন।’
গঠনতন্ত্র সংশোধনে মনোযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি নির্বাচনে কেন ব্যস্ত হলো অ্যাড হক কমিটি? প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বাবু।
অ্যাডহক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘আপনারা যে গঠনতন্ত্রের কথা বলছেন, সংশোধনের কথা, অবশ্যই আমরা আশা করছি নির্বাচনের পরে যারা নির্বাচিত হয়ে আসবে, তারা এটার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। যেগুলি প্রয়োজন, সেগুলি ইনশাআল্লাহ সংশোধন করবে তারা।’
অবশ্য মিরপুরের লাল-ইটের বিসিবি ভবনে এসব নির্বাচন কিংবা গঠনতন্ত্র ইস্যুতে খুব একটা আলোচনা নেই। অনেকটাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া হতে যাচ্ছে আসন্ন নির্বাচন।





