যে পাঁচ ইস্যুতে আটকে রয়েছে ওয়াশিংটন-তেহরান বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইরান
যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইরান | ছবি: সংগৃহীত
0

মূলত ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অনড় অবস্থানের কারণে ওয়াশিংটন-তেহরান পরবর্তী ধাপের বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। এরই মধ্যে, পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং লেবানন ইস্যুকে সবচেয়ে বেশি প্রাধাণ্য দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় সমঝোতার বদলে আপাতত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পরামর্শ তাদের।

ইরান যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায়। রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক করেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশের প্রতিনিধিদল। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চললেও আলোচনায় বসতে তেহরানের অনাগ্রহ আর ওয়াশিংটনের যুদ্ধংদেহী মনোভাব পুরো শান্তি আলোচনাকে ঠেলে দিয়েছে অনিশ্চয়তার দিকে।

ওয়াশিংটন-তেহরান সম্ভাব্য যে কোনো চুক্তির প্রধান বাধাগুলো বিশ্লেষণের চেষ্টা করছে আল জাজিরা। এরআগে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রচার করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ২০ বছরের জন্য পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিতের প্রস্তাব দিলেও ইরান চায় ৫ বছরের জন্য তা স্থগিত করতে। আর এখন ওয়াশিংটন যদি তেহরানকে পুরোপুরিভাবে এ কর্মসূচি বন্ধের শর্ত দেয়, তা কোনোভাবেই মানবে না ইরান। আর তেহরানের প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে নেয়ার যে ঘোষণা দিচ্ছেন ট্রাম্প- এটিও সমঝোতার পথে বড় আপত্তির জায়গা।

আরও পড়ুন:

পরমাণু কর্মসূচির বিরোধ পুরনো হলেও বর্তমানে দুই পক্ষের বিরোধীতার কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরে আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান। আর ট্রাম্পের বক্তব্য, চুক্তির আগ পর্যন্ত হরমুজে অবরোধ অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন। হরমুজ নিয়ে দুইপক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান সমঝোতার পথে সবচেয়ে জটিল বাধা বলে উল্লেখ করছে আল জাজিরা।

স্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জব্দকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছিল ইরান। আল জাজিরার দাবি, সমঝোতা করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে এই ছাড় দিয়েই আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। এছাড়াও, ক্ষয়ক্ষতির জন্য প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে ইরান। কিন্তু এ নিয়ে ওয়াশিংটন কোনো প্রতিক্রিয়া না দেয়ায় সমঝোতার পরিবেশই সৃষ্টি হচ্ছে না।

আর লেবানন ইস্যুতে জড়িয়ে আছে ইসরাইল নামের পথের কাঁটা। যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে লেবাননকে সংযুক্ত না করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করবে না বলে জানিয়েছে ইরান। কিন্তু ইসরাইল শুরুর দিন থেকেই লেবানন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে যাচ্ছে, যা থামাতে পারছেন না ট্রাম্পও। তাই লেবানন ইস্যুতেও বিপরীত মেরুতে দুই দেশ।

তবে বিশ্লেষকদের ধারণা ট্রাম্পের পরিবর্তনশীল অবস্থানের কারণে কিছু সুযোগ তৈরি হতে পারে। সরাসরি কোনো চুক্তির বদলে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো গেলে আলোচনার পথ সহজ হবে বলে মনে করেন তারা। কারণ, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক অক্ষশক্তিকে সাহায্য করা বন্ধ করবে না। তাই সরাসরি সমঝোতার চেয়ে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার পক্ষে মত তাদের।

জেআর