পোপ হিসেবে নিজের চতুর্থ বিদেশ সফরে রোম থেকে মাদ্রিদ যাওয়ার সময় বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিতে ‘ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধ’ ধারণাটি ব্যবহার করেছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে ইরানে চলমান যুদ্ধকে ‘ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করা যায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পোপ এই মন্তব্য করেন।
পোপ লিও বলেন, ‘সেখানে কোনো ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধ নেই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘সমস্যা হলো, “ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধ” তত্ত্বটি শত শত বছর আগের, এমন এক সময়ের, যখন মানুষ আজকের অস্ত্র এবং ধ্বংসাত্মক ক্ষমতার কথা কল্পনাও করতে পারতো না।’
ইরান সংঘাত নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পোপের টানাপোড়েনের খবর আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই এই মন্তব্য করলেন পোপ।
যুদ্ধ চলাকালে পোপ লিও বারবার সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন এবং পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ‘ইরানে কোনো সভ্যতা অবশিষ্ট থাকবে না।’ ওই হুমকিকে পোপ ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছিলেন। জবাবে ট্রাম্প পোপকে ‘দুর্বল’ এবং ‘পররাষ্ট্রনীতিতে ভয়ংকর’ বলেছিলেন।
পোপ এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, তিনি ভীত নন এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলে যাবেন।
এই পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া ইতালিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে রাজনৈতিক নেতারা ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন এবং পোপের শান্তির আহ্বানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি পোপের উদ্দেশে দেয়া ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন।





