নিহত শিশুর নাম সাম ফাহদ আবু হাইকাল। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি সেনাদের নির্দেশে গাড়ি থামানোর পরপরই এ গুলিবর্ষণ শুরু হয়।
হাইফা-ভিত্তিক দৈনিক হারেৎজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শিশুটির বাবা ফাহদ আবু হাইকাল বলেন, ‘তিনি গাড়ি থামিয়ে দুই হাত স্টিয়ারিংয়ে রাখার পরও সেনারা গুলি চালায়। তিনি বেলহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গুলি তার হাতে লাগার পর সেটি শিশুটিকে আঘাত করে, যে পেছনের সিটে তার মায়ের পাশে ছিল।
তিনি আরও বলেন, গাড়িতে তার স্ত্রী ও ১১ বছর বয়সী আরেক সন্তানও ছিল। তার দাবি, ঘটনাস্থলে কোনো স্পষ্ট চেকপয়েন্ট ছিল না এবং সেনারা রাস্তায় অবস্থান করছিল। তিনি বলেন, ‘সেনারা কাছ থেকে তাদের স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছিল, তবু গুলি চালানো হয়।’
এদিকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, একটি গাড়ি তাদের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে বলে মনে হওয়ায় তারা গুলি চালায়। এক সেনা ‘সিঙ্গেল শট’ নিক্ষেপ করে। বাহিনী বলেছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং নিরপরাধদের ক্ষতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। পরে প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়, আহতরা বেসামরিক নাগরিক ছিলেন এবং কোনো সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না।
শিশুটির বাবা ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও দায়ী সেনার জবাবদিহি দাবি করেছেন। এর আগে মার্চে অধিকৃত পশ্চিম তীরের তামুন এলাকায় গুলিবর্ষণে এক ফিলিস্তিনি দম্পতি ও তাদের দুই সন্তান নিহত হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় আসে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২৪০ শিশু। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৪৯ জন নিহত হওয়ার তথ্যও দিয়েছে সংস্থাটি।





