ইরান যুদ্ধ শেষ করতে মার্কিন নিম্নকক্ষে বিল পাশ

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সংসদের নিম্নকক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ শেষ করার একটি বিল পাশ করেছে ডেমোক্র্যাট নেতারা। বিলটি আইনে পরিণত হলে ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করবে কংগ্রেস। একই ভোটাভুটিতে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও একটি প্রস্তাবও পাশ হয়। এতে সিনেটে শুরু হবে যুদ্ধকবলিত দেশটিতে মার্কিন সহায়তা পাঠানোর ভোটের প্রক্রিয়া। কিন্তু নিম্নকক্ষের বিরোধী দলের এ পদক্ষেপ থামাতে পারবে কি না এ নিয়েও শুরু হয়েছে নানান বিতর্ক।

শান্তি আলোচনার অচলাবস্থা এবং চতুর্থ মাসে গড়ানো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের উত্তেজনার পারদ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সংসদের নিম্নকক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ শেষ করার একটি বিল পাস করেছে ডেমোক্র্যাটরা। যার প্রস্তাব অনুযায়ী, কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা না করলে বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন না দিলে ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে সংঘাত থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।

মার্কিন নিম্নকক্ষের প্রতিনিধি র‍্যান্ডি ওয়েবার বলেন, ‘কোনো আপত্তি না থাকায়, পুনর্বিবেচনার প্রস্তাবটি টেবিলে পেশ করা হলো।’

প্রশ্ন উঠেছে এই বিলটি কি ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে? কংগ্রেসে অনুমোদন পেয়ে বিলটি ফেডারেল আইনে পরিণত হবে কি না তা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক।

এর আগে গেল ২১ মে মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে ইরান যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় সংখ্যক রিপাবলিকান ভোটের অভাবে সভা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এ রকম পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউজের আপত্তি স্বত্বতেও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বিলের পক্ষে ভোট দেন চার রিপাবলিকান সদস্য। ফলে ২১৮-২০৪ ভোটে বিলটি পাশ হয়।

আরও পড়ুন:

এছাড়া, একই ভোটে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও একটি প্রস্তাব পাশ হয়। এতে সিনেটে শুরু হবে যুদ্ধকবলিত দেশটিতে মার্কিন সহায়তা পাঠানোর ভোট প্রক্রিয়া। তবে ডেমোক্র্যাটদের এই পদক্ষেপকে প্রতীকী জয় হিসেবেই অভিহিত করছেন বেশিরভাগ রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

ইউনাইটেড স্টেটস স্টাডিজ সেন্টারের গবেষণা পরিচালক জ্যারেড মন্ডশেইন বলেন, ‘বাস্তবতার চেয়ে এই বিল পাশের প্রতীকী গুরুত্ব বেশি। যদিও আমার মনে হয় না এটি যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেবে , কিংবা ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচনার পদ্ধতিতেও কোনো পরিবর্তন আনবে । কিন্তু এটি যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।’

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিলটির ভবিষ্যতে ফেডারেল আইনে পরিণত হওয়ার পুরো বিষয়টি শেষপর্যন্ত মার্কিন সংসদের উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান সদস্য এবং সবশেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপরই নির্ভর করছে।

দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট মার্কিন আইনসভাতে কোনও বিল আইনে পরিণত হতে হলে সেটিকে আলাদাভাবে উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পাশ হতে হয়। চেম্বার ভোটিংয়ে পাশ বিলটি পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে যায়। তিনি চাইলে বিলটিতে স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করতে পারেন অথবা ভেটো দিতে পারেন। তবে প্রেসিডেন্ট ভেটো দিলে, কংগ্রেস প্রতিনিধি সভা ও সিনেট দুই কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে তা বাতিল করতে পারে।

এফএস