মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের কৃষক মো. কালাম। দুই দশকের বেশি সময় ধরে তামাক চাষের সঙ্গে জড়িত তিনি। তামাকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানলেও বেশি লাভের আশায় এবার ১২ বিঘা জমিতে করেছেন তামাকের আবাদ।
মো. কালাম বলেন, ‘তিন চারটা কোম্পানি আমাদের কার্ড দিয়েছে। সেই কার্ডের মাধ্যমে আমরা বিক্রি করি। ওরা বলছে একরে ১৪ বা ১৬ বেল তামাক নেবে।’
কালামের মতো জেলার সদর, সাটুরিয়া, ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলায় কয়েক হাজার কৃষক তামাক চাষ করছেন। তামাক কোম্পানিগুলো তাদের স্বার্থে সহজ শর্তে ঋণ, বীজ ও সার দিয়ে চাষিদের তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছে।
আরও পড়ুন:
কৃষকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা তামাক ভাঙার কাজ করি। তামাক ভেঙে গাড়িতে উঠিয়ে দেই। সকাল ৮টায় ধরি, বিকেল ৫টায় শেষ করি। দিন ৬০০ টাকা হাজিরা, সঙ্গে তিন বেলার খাবার দেয়।’
অন্য একজন বলেন, ‘জানি, তামাক চাষে দেহের ক্ষতি হয়। কিন্তু অন্যান্য ফসলের চেয়ে তামাক চাষে বেশি লাভ হয়। সেজন্য তামাক চাষ করি।’
তামাক চাষ শুধু পরিবেশের ক্ষতি করছে না, তৈরি করছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও। তামাক চাষ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি পরিবেশবাদীদের।
মানিকগঞ্জের পরিবেশবাদী বিমল চন্দ্র রায় বলেন, ‘তামাকের কোনো উপকারিতা নেই। মানিকগঞ্জের অনেক অঞ্চলের মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এর ফলে।’
আরও পড়ুন:
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবিএম তৌহিদুজ্জামান সুমন বলেন, ‘তামাকের যে গ্যাসীয় একটা পদার্থ আছে সেটা আমাদের শ্বাসনালীতে গিয়ে অ্যাফেক্ট করে। নিকোটিনিক অ্যাফেক্টের মাধ্যমে শ্বাসকষ্ট হয়।’
এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, গত বছরের তুলনায় এবছর ৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ কমেছে। তবে পুরোপুরি নিরুৎসাহিত করতে কাজ চলছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৫৫ হেক্টর জমিতে তামাকের আবাদ হয়েছে।
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনার আয়োজন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা যদি তামাকের পরিবর্তে আঁখ, কলা, ব্রোকলি এবং উচ্চ ফলনশীল ফসল দিতে পারি, সেক্ষেত্রে তামাক চাষিদের তামাক চাষ থেকে সরিয়ে আমরা ভালো ফসলের দিকে নিয়ে আসতে পারবো।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাভের কারণে তামাক চাষে ঝুঁকলেও এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ভয়াবহ। তাই কৃষকদের টেকসই বিকল্পে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ দু’টিই হুমকির মুখে পড়বে।





