ইরানি বন্দর অবরোধ তুলে না নেয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিও খোলা হবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখনও অযৌক্তিক দাবি থেকে সরে আসতে না চাওয়ায় দ্বিতীয় দফার বৈঠকের তারিখ এখনো ঠিক হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ। একটি সমঝোতার রূপরেখায় উভয়পক্ষ সম্মত না হওয়া পর্যন্ত ফের সরাসরি বৈঠকে বসা অসম্ভব বলেও জানান তিনি।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেন, ‘মার্কিন পক্ষ অনেক টুইট করে, অনেক কথা বলে। কখনও বিভ্রান্তিকর, কখনও পরস্পরবিরোধী। তাই এখন আমারা সমঝোতার রূপরেখা চূড়ান্ত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। যখন আমরা এটি চূড়ান্ত করতে পারব, তখন আমরা পরবর্তী ধাপের আলোচনার দিকে এগোতে পারব।’
এদিকে তেহরান ওয়াশিংটনকে বিশ্বাস করে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। তাই যে কোনো মুহূর্তে আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি। আর ইরানি বন্দরে অবরোধ দেয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূর্খতা বলেও মন্তব্য করেছেন গালিবাফ।
আরও পড়ুন:
ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছিলাম। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃত-ভাবে আমাদের বন্দর অবরোধ করে রেখেছে। এটা কী স্বাভাবিকভাবে কোনো ঘটনা। আমাদের ওপর তাদের অবরোধের মানে কী? এর মানে হলো- সবাই আসা-যাওয়া করবে, কিন্তু ইরান পারবে না। তাদের এই সিদ্ধান্ত বোকামি ও মূর্খতার সামিল।’
চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল রাখার সিদ্ধান্তে অনড় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দু'সপ্তাহের যুদ্ধিবিরতির মেয়াদ বুধবার শেষ হওয়ার আগেই চুক্তি না হলে, ইরানে ফের হামলা হুমকি দিয়ে রেখেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটু চালাকি করছে, যেমনটা তারা ৪৭ বছর ধরে করে আসছে। কেউ কখনো তাদের মোকাবেলা করেনি। আমরাই তাদের মোকাবেলা করেছি। তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো বিমানবাহিনী নেই, কোনো নেতা নেই, কিছুই নেই। আপনি একে বলপূর্বক শাসন পরিবর্তন বলতে পারেন। কিন্তু আমরা তাদের সাথে কথা বলছি। তারা আবার হরমুজ প্রণালীটি বন্ধ রাখতে চাইছে। তারা আমাদের ব্ল্যাকমেল করতে পারবে না।’
ইরানের বন্দর অবরোধে ১২টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং ১০ হাজার কর্মী ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে বলে জানা গেছে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বহরে দুটি ডেস্ট্রয়ার যুক্ত করে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছেছে বিশ্বের সবচেয় বড় মার্কিন রণতরী জেরাল্ড ফোর্ড। এদিকে মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরান সংশ্লিষ্ট জাহাজ জব্দের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর বেরিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রেখে ট্রাম্প শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা দিচ্ছে অভিযোগ তুলে, বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীরা।





