ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে তাড়াহুড়ো নেই যুক্তরাষ্ট্রের, বহাল থাকবে নৌ-অবরোধ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে যেতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ধরনের তাড়াহুড়ো নেই। চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, ভারত সফরে যুদ্ধিবিরতি নিয়ে তেহেরানকে ওয়াশিংটনের জোরালো প্রস্তাব সম্পর্কে জানিয়েছেন মার্কো রুবিও।

একদিনের ব্যবধানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে সুর বদলালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচকদের তাড়াহুড়ো করতে নিষেধ করেছেন। একই সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল রাখা এবং দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

আরেকদিকে, দিল্লি সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধিবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বেশ জোরালো প্রস্তাব দিয়েছে। যেখানে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রস্তাবটি পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোসহ ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন পেয়েছে।

আরও পড়ুন:

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরানকে বেশ জোরালো প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। সেখানে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া ও তেহরানের পারমাণবিক বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আছে। উপসাগরীয় অঞ্চল ছাড়াও বিশ্বজুড়ে প্রস্তাবটির ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করছেন না। তিনি কোনো খারাপ চুক্তি করতে চান না। দেখা যাক কী হয়।

এদিকে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান কূটনীতিক আলোচনার মধ্যেই রেভল্যুশনারি গার্ডসের বরাতে ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না ইরান। গেল ২৪ মে আইআরজিসি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

আরেকদিকে, এ বিষয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করা হলেও দুই দেশের মধ্যকার বিতর্কিত ইস্যুগুলোর স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা কম। এই যুদ্ধবিরতি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। বিশেষ করে, ইরান কীভাবে তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিষ্কাশন বা হস্তান্তর করবে, সেটি এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত বিষয়।

ইএ