নববর্ষ উদযাপনে স্বামীর ও ৯ মাসের মেয়েকে নিয়ে বৈশাখের পোশাক কিনতে এসেছেন সিগমা রহমান। ম্যাচিং সেট খুঁজছেন তারা।
সিগমা রহমান বলেন, ‘এটা তো একটা উৎসব। যেহেতু এটা আমাদের বাচ্চার প্রথম বৈশাখ তাই আমরা চাচ্ছিলাম ম্যাচিং ড্রেস কেনার জন্য আসা।’
গরমে আরামের জন্য দেশি বুটিক হাউজগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। এবার শুধু সাদা লাল রঙের মধ্যে আটকে নেই ক্রেতারা। হলুদ, নীল, বেগুনীসহ নানা উজ্জ্বল রঙের কদর এবার বেশি। কেউ কেউ অনেক বছর পর দেশে ফিরে এসেছেন বৈশাখের কেনাকাটা করতে। দাম নিয়ে অভিযোগ থাকলেও নতুন বছরকে বরণ করতে সাধ্যের মধ্যেই কেনার চেষ্টা ক্রেতাদের। একজন বলেন, ‘আমি অনেক বছর ছিলাম না দেশে। এবার আসা তাই বেড় হয়েছি কিছু একটা কেনার জন্য।’
আরও পড়ুন:
নতুন বছরে নতুনভাবে উৎসবটাকে রাঙাতে এ কেনাকাটা করা হচ্ছে বলে জানান ক্রেতারা।
লোকজ মোটিফের উপর শাড়ি পাঞ্জাবির পাশাপাশি সালোয়ার কামিজ, ফতুয়া, কাতুয়া, কুর্তি এনেছে ফ্যাশন হাউজগুলো। ছোট বড় সকলের পোশাকে এবার বাংলা সংস্কৃতির নানা নকশা তুলে ধরেছেন তারা। জানালেন, গত বছরের তুলনায় এবার বৈশাখে বিক্রি বেড়েছে দ্বিগুণ।
এবছর যেমন হাতের কাজের কাপড় বেশি তেমনি বেচাবিক্রিও গতবছরের তুলনায় বেশি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে বৈশাখকে ঘিরে দম ফেলার সময় পাচ্ছেন না ব্লক প্রিন্ট কারিগররা। যারা তাদের পোশাকে একটু ভিন্ন ডিজাইন চাচ্ছেন তারাই ছুটে আসছেন এখানে। তাই তো গ্রাহকদের পছন্দ অনুযায়ী সময়মতো পোশাক হাতে তুলে দিতে কাঠের ছাঁচে রঙ মেখে শাড়ি, পাঞ্জাবি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। তবে সরকারি নির্দেশনায় সন্ধ্যা সাতটায় দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে বলে এবার কিছুটা বিপাকে পড়েছেন বিক্রেতারা।
আরও পড়ুন:
বিভিন্ন রকমের ডিজাইন পাওয়া যায়বিধায় ক্রেতারা এখানে আসেন বলে জানান, ডিজাইন বিক্রেতারা।
শুধু পোশাক নয় অন্দরমহলেও বৈশাখী ছোঁয়া রাখতে মাটির তৈজসপত্র, বাঁশের ঝুঁড়ি, তবলাসহ নানা গ্রামীণ পণ্য কিনতে ভিড় বেড়েছে ঘর সাজানোর সামগ্রীর দোকানে। এছাড়া পোশাকের সাথে মিলিয়ে মাটির এবং কড়ির গহনা আর কাঁচের চুরি কিনছেন অনেকেই।
পোশাক, সাজসজ্জার পাশাপাশি বাংলা নতুন বর্ষের প্রথম দিনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে পান্তা ইলিশ তাই তো বৈশাখের আগে ইলিশের বাজার বেশ চড়া। ভোজনরসিক অনেকেই বিভিন্ন বাজার ঘুরেও কিনতে পারছেন না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মাছ। আবার যারা কিনছেন তারাও দুইটার জায়গায় কিনছেন একটা।
এ উৎসবে ইলিশ না খাওয়া হলে উৎসব উৎস মনে হয় না। আর ইলিশের দাম কিছুটা বেশি বলেও জানান ক্রেতারা।
মাছের পাশাপাশি পহেলা বৈশাখের আগে দাম বেড়েছে মুরগি এবং বিভিন্ন সবজির। সোনালি মুরগির দাম একমাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এছাড়া প্রতি সবজির দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত।
জ্বালানি তেলের সংকটে পরিবহন খরচ বাড়ায় বাজার উর্ধ্বমুখী বলে দাবি বিক্রেতাদের।





