জীর্ণ পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুনের আবাহন- পহেলা বৈশাখ। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য আর শিকড় ছোঁয়ার এই উৎসব ঘিরে এখন দেশজুড়ে সাজ সাজ রব। রঙিন স্বপ্ন মেখে প্রস্তুত হচ্ছে বাঙালি জাতি।
বছরের শেষ সূর্যাস্তকে বিদায় জানাতে নৃত্যাঞ্চল সাজিয়েছে বিশেষ আয়োজন। ঘুঙুরের নিক্কন আর ছন্দের দোলায় চৈত্র সংক্রান্তির বিদায়ী লগ্নে প্রাণস্পন্দন জাগিয়ে তুলতে প্রস্তুত ক্ষুদে শিল্পীরা।
জরা কাটিয়ে নতুন ভোরে জেগে ওঠার প্রত্যয় ফুটে উঠছে তাদের প্রতিটি মুদ্রায়।
ক্ষুদে শিল্পীদের নাচের শিক্ষক বলেন, ‘নতুন যে কালচার আছে সেটা বাচ্চারা নাচের মাধ্যমে তুলে ধরবে। এখানে কুলা, ডালা নিয়ে নাচবে।’
আরও পড়ুন:
নৃত্যাঞ্চলের প্রতিষ্ঠাতা শামীম আরা নিপা বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের আগমন এবং চৈত্র সংক্রান্তি, বর্ষ বিদায়, দুইটা একসঙ্গে করে আমরা অনুষ্ঠানটা করবো।’
বৈশাখের ষোলোকলা যেখানে পূর্ণতা পায় সেই চারুকলা অনুষদে এখন শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততা। কাঠ, বাঁশ আর রঙের মিশেলে মূর্ত হয়ে উঠছে লোকজ বাংলার প্রতিচ্ছবি।
বৈশ্বিক অস্থিরতা আর হানাহানি ভুলে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যয় আয়োজকদের।
চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘এবারের প্রতিপাদ্য হলে নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান। গতবছরের প্রেক্ষাপট এবং এবছরের প্রেক্ষাপটের পার্থক্য থাকার কারণে আমাদের যেসব লোক ঐতিহ্যের যে প্রতিনিধিত্ব করে, সে মোটিভগুলো আমরা বানাচ্ছি। আশা করি আমাদের শোভাযাত্রাটি সফল হবে।’
আরও পড়ুন:
ভোরের প্রথম আলোতে বৈশাখী সুরে মুখরিত হবে রমনা বটমূল। ছায়ানটের শিল্পীরা এখন মগ্ন শেষ মুহূর্তের সুর সাধনায়।
ছায়ানটের যুগ্ম সম্পাদক জয়ন্ত রায় বলেন, ‘এবছরের আমাদের থিম হলো, চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ সেথা শির। এ থিম নিয়ে আমাদের গান, কথন, আবৃত্তি হবে।’
বাঙালিয়ানা আর শুদ্ধ সংস্কৃতির এই ধারা বৈশাখের সকালেই পূর্ণতা পাবে নগরবাসীর হৃদয়ে। আর তাই তো, শ্বাশ্বত বাংলার এই জয়গানে সব সংকীর্ণতা দূর করে সমৃদ্ধির খোঁজে নগরবাসী।





