ফেনীতে অসময়ের শিলাবৃষ্টি-সিন্ডিকেট দৌরাত্ম্য; আবাদ বাড়লেও লোকসানের ঝুঁকি

খেতে নষ্ট হচ্ছে তরমুজ
খেতে নষ্ট হচ্ছে তরমুজ | ছবি: এখন টিভি
0

অসময়ের শিলাবৃষ্টি ও জ্বালানি তেলের সংকটে পরিবহন সিন্ডিকেট ও দরপতনের কবলে পড়ে ফেনীতে ‘পুঁজি’ হারাতে বসেছেন তরমুজ চাষিরা। চলতি মৌসুমে তরমুজের আবাদ বাড়লেও চরম লোকসানের ঝুঁকিতে হতাশ বিনিয়োগকারীরা।

ফেনীর সোনাগাজীর দক্ষিণ চর চান্দিনায় ৯০ একর জমিতে তরমুজ চাষে স্বপ্ন বুনেছিলেন আবু সাইয়িদ রুবেলসহ ১০ কৃষক। সমবায় পদ্ধতিতে ১ কোটি ১৬ লাখ টাকার বিনিয়োগে ফলেছে তরমুজের বাম্পার ফলন। কিন্তু বাজারে নেই ক্রেতা। ফসল পড়ে আছে মাঠে। পরিশ্রমের সেই ফসল এখন খাওয়ানো হচ্ছে গবাদি পশুকে।

স্থানীয় একজন তরজুম চাষি বলেন, ‘হাজার হাজার তরমুজ নষ্ট হচ্ছে। এখন আমরা তা ফেলে দিচ্ছি। গরু খাচ্ছে। আর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় ফলন নষ্ট হয়েছে যেমন তেমনি আমাদের ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।’

তরমুজের আকার ছোট, কোথাও রং নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কোথাও বৃষ্টির কারণে পচন ধরেছে। পরিবহনে বাড়তি খরচ এবং শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। বৃষ্টি জন্য অনেক ফলন নষ্ট হয়েছে। তাছাড়া সিন্ডিকেটেরে জন্যও গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান স্থানীয় তরমুজ চাষিরা।

আরও পড়ুন:

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, চরে তরমুজসহ নানা ধরনের ফসল ফলান তারা। কোনো হিমাগার না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় তাদের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, তারা কৃষকের এ ক্ষতির বিষয়ে অবগত আছেন। জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আতিক উল্যাহ বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেকটা ক্ষতি হয়েছে। আর পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকের লাভ পাচ্ছে না।’

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৭৭৪ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৯ হেক্টরে। এরই মধ্যে সোনাগাজীতে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৭৫০ হেক্টর, কিন্তু আবাদ হয়েছে ১ হাজার ১০৫ হেক্টরে।

গত মৌসুমে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছিলো এবং আবাদ ৫২৫ হেক্টর বাড়ায় এবার তরমুজের বাজার ২৫০ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করছিলেন জেলার কৃষকরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কৃষকদের সেই আশায় যেন গুড়েবালি।

জেআর