ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে নিহেতর সংখ্যা বেড়ে ৩৭, আহত ৫০০

ফিলিপাইনে ভূমিকম্প
ফিলিপাইনে ভূমিকম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

ফিলিপিন্সে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আহতের প্রায় ৫০০। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে চাপা পড়ে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা কর্তৃপক্ষের। সুনামি সতর্কতা তুলে নেয়া হলেও এখনও আফটারশক আঘাত হানার শঙ্কা রয়েছে। একারণে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বানও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর, পেরিয়ে গেছে একদিন। কিন্তু এখনও ফিলিপিন্সের রাস্তায় ধ্বংসের স্তূপ। অব্যাহত রয়েছে ভেঙে পড়া ভবনগুলো থেকে হতাহতদের সরিয়ে নিতে উদ্ধার কার্যক্রম। কর্তৃপক্ষের শঙ্কা, প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়বে।

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর সামনে এখনও নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে চোখে- মুখে চিন্তার ভাঁজ নিয়েই অপেক্ষা করছেন অনেকে।

সন্তান ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে আছে, একজন মা হিসেবে এটা মেনে নেয়া কষ্টকর। আমার দাবি, আজকের মধ্যে আমার সন্তানকে উদ্ধার করা হোক। এতো ধ্বংসস্তূপ দেখে কান্না ধরে রাখতে পারছি না। আমার এক আত্মীয়ের বাড়ি ধসে পড়েছে। জানি না তারা কেমন আছে।

এছাড়াও, ভূমিকম্পের ঘটনায় এখনও স্বাভাবিক হয়নি ফিলিপিন্সের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর যানচলাচল। বন্ধ অনেক দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিঘ্নিত হচ্ছে বিদ্যুৎ ও পরিবহন পরিষেবা। এছাড়াও, ক্ষতিগ্রস্ত জেনারেল সান্তোস সিটিতে বিমানবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফিলিপিন্সের ১১০০ এর বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্থানীয় একজন বলেন, ‘কোথাও একফোঁটা পানি নেই। বিদ্যুৎ না থাকায় ব্ল্যাকআউটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’

এদিকে, সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরের পর সুনামি সতর্কতা তুলে নেয়া হলেও, শঙ্কা রয়েছে যেকোনো সময় আফটারশক আঘাত হানার। ফিলিপিন্সের আবহাওয়া দপ্তর বলছে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আফটারশক অনুভূত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭ টা ৩৭ মিনিটে ফিলিপিন্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিনদানাও দ্বীপে অনুভূত হয় শক্তিশালী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে এর যার মাত্রা ছিলো ৭ দশমিক ৮। দেশটির আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্পন ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূ-কম্পনের পর অনেক স্থানে মুহূর্তেই তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ একাধিক বহুতল ভবন।

জেআর