বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ পাচারের একটি চক্র সক্রিয়—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল গত ১০ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টা ৪৫ মিনিট থেকে গতকাল (শনিবার, ১১ এপ্রিল) সকাল ৭টা পর্যন্ত দিনাজপুরের বিরল ও ঠাকুরগাঁও সদর এলাকায় যৌথ অভিযান চালায়। এসময় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) সহায়তা করে।
অভিযানকালে আটক দুইজনের কাছ থেকে ৯ দশমিক ৫৪ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি এবং ৪৫ দশমিক ৩৭ কেজি ওজনের শ্বেত পাথরের শিব মূর্তি উদ্ধার করা হয়। আটকরা হলেন—দিনাজপুরের বিরল উপজেলার গৌরিপুর গ্রামের শ্রী সুমন চন্দ্র দেব (৩০) এবং ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের মো. আব্দুল হাই (৬৫)।
এছাড়া দিনাজপুরের বীরগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩৩ দশমিক ৮৫ কেজি ওজনের আরও একটি কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন:
উদ্ধারকৃত প্রত্নবস্তুসমূহ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক কার্যালয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছে। ‘পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন, ১৯৬৮’ (সংশোধিত ১৯৭৬) অনুযায়ী এ ধরনের নিদর্শন সংরক্ষণের দায়িত্ব সরকারের ওপর ন্যস্ত।
বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত মূর্তিগুলোর আনুমানিক সিজার মূল্য ৬৬ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় এগুলোর প্রকৃত মূল্য অপরিমেয়।
আটক আসামি ও উদ্ধারকৃত আলামত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, ‘দেশের প্রত্নসম্পদ রক্ষা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
এছাড়া মাদক, মানবপাচার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে তারা বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।





