এদিকে ইরান যুদ্ধের ব্যয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন ইঙ্গিত দিয়ে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধে খরচ বহন করতে আরব দেশগুলোকে আহ্বান জানাতে পারেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের ডানপন্থি সমালোচক শন হ্যানিটি বলেছেন, খরচ বহনের দায় ইরানকেই দিতে হবে। ইরান উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। তাদের দাবি, কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালেই তাদের ওপর প্রথম হামলা চালানো হয়েছে।
নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ব্যয় নিয়ে। এরই মধ্যে হোয়াইট হাউস ইঙ্গিত দিয়েছে, আরব দেশগুলোর কাছে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের খরচ বহনের আহ্বান জানাতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এ যুদ্ধের আনুমানিক ব্যয় কয়েক হাজার কোটি ডলার।
সম্প্রতি ট্রাম্পের মুখপাত্র ক্যারোলিন ল্যাভিট বলেন, এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগ্রহী। যেভাবে ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা ওয়াশিংটনকে অর্থায়ন করেছিল। তখন ইরাকের কুয়েত আগ্রাসন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠন করে। পরবর্তীতে আরব দেশসহ জার্মানি ও জাপান মিলে প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয়, যা বর্তমান মূল্যে ১৩৪ বিলিয়ন ডলারের সমান।
আরও পড়ুন:
তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সরাসরি মিত্রদের ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। আরব রাষ্ট্রগুলোও এ বিষয়ে এখনো মন্তব্য করেনি। এদিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ডানপন্থী সমালোচক শন হ্যানিটি বলেছেন, খরচ বহনের দায় ইরানকেই দিতে হবে। এমনকি তেল দিয়ে সেই মূল্য পরিশোধের কথাও বলেন তিনি।
তবে ইরান উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। তাদের দাবি, কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালেই তাদের ওপর প্রথম হামলা চালানো হয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্র বা এই অঞ্চলের জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি।
অন্যদিকে যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধির চেয়েও বড় বিষয় হলো দীর্ঘমেয়াদে ইরানের হুমকি মোকাবিলা করা।
এদিকে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে। যদিও তারা দাবি করছে, কেবল মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুই তাদের টার্গেট, তবে বাস্তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের হোটেল, বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে।





