আবারও দস্যু আতঙ্কে পাথরঘাটা: সাগরে যেতে ভয়, কমছে মাছের সরবরাহ

জলদস্যু আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে পাথরঘাটার জেলেদের
জলদস্যু আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে পাথরঘাটার জেলেদের | ছবি: এখন টিভি
0

আবারও দস্যু আতঙ্কে দিন কাটছে বরগুনার পাথরঘাটার জেলেদের। গভীর সাগর ছাড়িয়ে দস্যুদের থাবা এখন উপকূলেও। একের পর এক অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণের ঘটনায় জীবিকা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন নদীতীরবর্তী মানুষ। ভয়ে সাগরে না নামায় হাটবাজারে আশঙ্কাজনক হারে কমছে মাছের সরবরাহ।

জেলেদের জন্য জীবিকার উৎস নীল জলরাশি এখন যেন মৃত্যুভয়ের প্রতীক। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সুন্দরবন ও গভীর সমুদ্রের বিভিন্ন পয়েন্টে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ দস্যু চক্র।

বরগুনার পাথরঘাটা উপকূলে জেলেদের চোখে-মুখে এখন আতঙ্ক। মাছ ধরার ট্রলারগুলোতে বাড়ছে জলদস্যুদের হানা। কয়েক বছর আগে সুন্দরবনের কটকা এলাকা থেকে অপহৃত হন জেলে ইব্রাহিম হাওলাদার। মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এলেও এখনো কাটেনি তার ভয়।

ভুক্তভোগী জেলে ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, ‘জলদস্যুদের যদি কোনোভাবে দমন করা না যায়, তাহলে জেলেদের বাঁচানো যাবে না।’

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পদ্মা স্লুইস এলাকা থেকে ট্রলারসহ নিখোঁজ হয় কিশোর মিরাজুল। এর পাঁচ দিন পর নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় জলদস্যুদের গুলিতে আহত হন আরও দুই জেলে। এমন একাধিক ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন হাজারো জেলে ও তাদের পরিবার।

জেলেরা জানান, পেটের দায়ে মাছ ধরতে সাগরে যেতে হলেও জলদস্যুদের আতঙ্কে সব সময় ভয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

দস্যু আতঙ্কে সাগরে মাছ ধরা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটা এখন অনেকটাই সুনসান। অলস পড়ে আছে অসংখ্য ট্রলার। এর প্রভাব পড়েছে হাট-বাজারেও, কমছে মাছের সরবরাহ।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখানে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৪ লাখ ৩১ হাজার ১৭৩ টাকা; যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৩৮ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭ টাকা কম।

বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক জিএম মাসুদ শিকদার বলেন, ‘মৎস্য আহরণ ও সরবরাহ দুটোই কমে গেছে। এতে যেমন জেলেরা মাছ কম পাচ্ছে, তেমনি সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে। তবে আমি আশাবাদী, আগামী মৌসুমে এ সমস্যা কিছুটা কমবে।’

জলদস্যুদের হামলা ও অপহরণ থেকে রক্ষা পেতে মানববন্ধন করেছেন জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় হলে দস্যু বাহিনী নির্মূল করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘দ্রুত জলদস্যুদের নির্মূল করা না হলে আমাদের এই পেশা ছেড়ে দিতে হবে। আগে মুক্তিপণ ছিল ১ থেকে ২ লাখ টাকা, এখন চাওয়া হয় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। এত টাকা দিয়ে জেলেদের ছাড়ানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালে জলদস্যুদের ধরা অসম্ভব নয়।’

তবে, জলদস্যু ইস্যুতে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি পাথরঘাটা কোস্টগার্ড। তথ্য সংগ্রহের সময় ক্যাম্পে প্রবেশেও বাধা দেয়া হয়।

জেআর