গতকাল (সোমবার, ২ মার্চ) কলারোয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান রেজা নেতৃত্বে একটি দল কলারোয়া পৌর সদরের তুলশিডাঙ্গা ডায়াবেটিক হাসপাতালের সামনে অভিযান চালায়। অভিযানে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়ক থেকে ১২০ মণ আফ্রিকান মাগুরসহ একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আটক হন মাছের মালিক হেলাতলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম।
আটকের পর মাছ ও ট্রাকটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে আসা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেবুন নাহার অভিযুক্তকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একইসঙ্গে মাছ নিধনের মৌখিক নির্দেশ দেন। তবে সেটি বাস্তবে কার্যকর হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ১০ লাখ টাকা বাজার মূল্যের এ মাছগুলো কতিপয় অসাধু ব্যক্তির মধ্যস্থতায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে দফারফা করে ছেড়ে দেয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে ওই মাছগুলো ঢাকাতে চড়া দামে বিক্রি করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
আরও পড়ুন:
এই ঘটনায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা একে অপরকে দোষারোপ করছেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান রেজা বলেন, ‘আমার কাজ ছিল অভিযান চালানো এবং অপরাধীকে হাজির করা।’
মাছ নিধনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাছ জব্দ ও জরিমানা করেছেন।’
তবে তিনি জব্দকৃত মাছ নিধনের কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার বলেন, ‘মৎস্য কর্মকর্তা মাছসহ ট্রাকটি উপজেলায় নিয়ে আসলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাছ নিধনের আদেশ দিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’
তবে মাছ কোথায় বা কীভাবে নষ্ট করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার বিষয়টি নিয়ে বলেন, ‘মাছ ও ট্রাক জব্দ করার পর তা ছেড়ে দেয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ঘটনায় প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা বা মধ্যস্থ ব্যক্তি যদি জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
আরও পড়ুন:
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক পরিচয় দেয়া বিএনপি নেতার মধ্যস্থতায় এই মাছ উপজেলা চত্বর থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত আনোয়ারুল ইসলাম এর আগে দু’বার নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুরসহ ধরা পড়লেও সহজে ছাড় পেয়েছেন, যার ফলে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। নিষিদ্ধ এই মাছ মানব স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং পরিবেশ ও স্থানীয় মাছের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ, যার কারণে কলারোয়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আফ্রিকান মাগুর একটি শিকারি মাছের জাত, যা স্থানীয় মাছ ও জলজ প্রাণীর ওপর আক্রমণ করে তাদের সংখ্যা কমিয়ে দেয়। বাংলাদেশ সরকার ২০১৪ সাল থেকে আফ্রিকান মাগুর চাষ, বিক্রয়, আমদানি ও পরিবহন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষা।





