গেল সপ্তাহে আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে হত্যা করে পাকিস্তান। জবাবে বৃহস্পতিবার রাতে হুট করেই পাকিস্তানি সীমান্ত চৌকিতে হামলা চালায় আফগান তালেবানরা। ডুরান্ড লাইন সীমান্তে তালেবানদের হামলায় হতাহত হন অর্ধশতাধিক পাকিস্তানি সেনা। এ সময় দেশটির ১৫টি সামরিক চৌকি দখলের দাবি করেন আফগান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ।
বিনা উস্কানিতে তালেবানদের হামলার প্রতিশোধ নিতে অপারেশন গাজাব লিল হক অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী। কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানের এক রাতের বিমান হামলায় প্রাণ হারায় শতাধিক তালেবান সদস্য। ধ্বংস করা হয় বেশ কয়েকটি সদর দপ্তরসহ অন্তত ২৭টি সামরিক ঘাঁটি এবং ৮০টির বেশি ট্যাঙ্ক, আর্টিলারি এবং সেনাদের গাড়ি। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি।
আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। এক্স বার্তায় তিনি লেখেন, পাকিস্তানের ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেছে। আফগানদের কঠোর জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, শান্তি ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার সঙ্গে কোনো আপস করবে না পাকিস্তান। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেন, যেকোনো আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্যকে ধূলিসাৎ করে দেবে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এবং হতাহতের সংখ্যা নিয়েও গড়মিল রয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে। আফগানিস্তান বেশ কয়েকজন সেনাকে অপহরণের দাবি করলেও পাকিস্তান তা অস্বীকার করেছে। দুই দেশই তোরখাম সীমান্তে গোলাগুলির খবর প্রকাশ করেছে। তবে হতাহতের চিত্র প্রকাশ করেনি।
গেল অক্টোবরে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর এটি সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা। পাকিস্তানের অভিযোগ, টিটিপি ও ইসলামিক স্টেটের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রশিক্ষণ নেয় আফগানিস্তানে। এছাড়া, আক্রমণের ঘাঁটি হিসেবে তারা আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে আসছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে তালেবান সরকার।





