Recent event

ইফতারে দই-চিড়া কেন সেরা? জানুন এর ১০টি জাদুকরী স্বাস্থ্য উপকারিতা

দই চিড়া
দই চিড়া | ছবি: এখন টিভি
0

রমজানে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে (Iftar) এমন খাবার খাওয়া উচিত যা সহজে হজম হয় এবং শরীরকে দ্রুত সতেজ করে তোলে। এ ক্ষেত্রে দই-চিড়া (Yogurt and Flattened Rice) হতে পারে একটি চমৎকার স্বাস্থ্যকর বিকল্প। তেল-মশলাযুক্ত ভাজাপোড়া খাবারের বদলে এই হালকা খাবারটি কেন আপনার ইফতারের টেবিলে থাকা জরুরি, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।

দই-চিড়ার পুষ্টিগুণ ও কেন খাবেন? (Nutrition of Curd and Chira)

চিড়া (Flattened Rice) শুকনো চাল থেকে তৈরি হয় যা সহজে হজমযোগ্য কার্বোহাইড্রেট সরবরাহ করে। অন্যদিকে, দই (Yogurt) হলো প্রাকৃতিকভাবে প্রোবায়োটিক, প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের আধার। এই দুইয়ের সংমিশ্রণ ইফতারের জন্য একটি আদর্শ ও পুষ্টিকর খাবার (Nutritious Food)।

আরও পড়ুন:

দই-চিড়া খাওয়ার বিশেষ উপকারিতা (Benefits of Eating Curd-Chira)

পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতারে দই-চিড়া খাওয়ার প্রধান কারণ ও সুবিধাগুলো হলো:

তাৎক্ষণিক শক্তি সরবরাহ (Instant Energy Boost): সারাদিন রোজা রাখার পর শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। চিড়ায় থাকা প্রচুর কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate) দ্রুত গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়।

সহজে হজম ও পাকস্থলীর আরাম (Easy Digestion): ভাজাপোড়া খেলে অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা (Acidity or Gastric Problems) হয়। চিড়া-দই খুব সহজপাচ্য হওয়ায় এটি পাকস্থলীকে শান্ত রাখে এবং দইয়ের প্রোবায়োটিক হজমশক্তি বাড়ায়।

পানিশূন্যতা দূর করে (Prevent Dehydration): দই শরীরের পানিশূন্যতা পূরণ করতে এবং ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স (Electrolyte Balance) বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে গরমের রোজায় এটি অত্যন্ত কার্যকর।

পেট ঠান্ডা রাখে (Keep Stomach Cool): না খেয়ে থাকার ফলে সৃষ্ট অম্লতা বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করে পেট ঠান্ডা রাখতে দই অনন্য।

আরও পড়ুন:

প্রোটিনের ভালো উৎস (Source of Protein): দই উচ্চমানের প্রোটিন সমৃদ্ধ যা কোষ পুনর্গঠন ও পেশি গঠনে ভূমিকা রাখে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক (Weight Loss Friendly): এটি একটি কম ক্যালোরিযুক্ত (Low Calorie) এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়।

হাড়ের জন্য উপকারী (Good for Bone Health): দইয়ের প্রচুর ক্যালসিয়াম হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি (Boost Immunity): দইয়ের প্রোবায়োটিক অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং বিভিন্ন সংক্রমণ (Infections) থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

ভালো ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি (Improve Sleep & Reduce Stress): দইয়ে থাকা ট্রিপটোফ্যান মস্তিষ্কে সেরোটোনিন উৎপাদন করে ঘুমের মান উন্নত করে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

তাই এই রমজানে সুস্থ ও সতেজ থাকতে নিয়মিত ইফতার মেন্যুতে (Iftar Menu) তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের পরিবর্তে দই-চিড়া রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

সুষম ইফতার মেন্যু এবং দই-চিড়া তৈরির গাইডলাইন

বিভাগ (Category) খাবারের নাম ও প্রস্তুত প্রণালী (Items & Method)
প্রাথমিক ইফতার (Starter) ২-৩টি খুরমা খেজুর এবং ১ গ্লাস লেবুর শরবত বা ডাবের পানি।
প্রধান ইফতার (Main Item) স্বাস্থ্যকর দই-চিড়া: এটি পাকস্থলী ঠান্ডা রাখে এবং দ্রুত শক্তি দেয়।
দই-চিড়া তৈরির পদ্ধতি (How to Prepare) ১. ১ কাপ চিড়া ভালো করে ধুয়ে ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।


২. পানি ঝরিয়ে তাতে আধা কাপ টক দই বা মিষ্টি দই মেশান।


৩. স্বাদ বাড়াতে ১টি কলা বা আম এবং সামান্য মধু যোগ করতে পারেন।

ফল ও সবজি (Fruits & Veg) শসা, আপেল, তরমুজ বা পেঁপের সালাদ।
বর্জনীয় খাবার (Avoid) বেশি তেলযুক্ত বেগুনি, পিঁয়াজু এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কৃত্রিম পানীয়।

আরও পড়ুন:


এসআর