দই-চিড়ার পুষ্টিগুণ ও কেন খাবেন? (Nutrition of Curd and Chira)
চিড়া (Flattened Rice) শুকনো চাল থেকে তৈরি হয় যা সহজে হজমযোগ্য কার্বোহাইড্রেট সরবরাহ করে। অন্যদিকে, দই (Yogurt) হলো প্রাকৃতিকভাবে প্রোবায়োটিক, প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের আধার। এই দুইয়ের সংমিশ্রণ ইফতারের জন্য একটি আদর্শ ও পুষ্টিকর খাবার (Nutritious Food)।
আরও পড়ুন:
দই-চিড়া খাওয়ার বিশেষ উপকারিতা (Benefits of Eating Curd-Chira)
পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতারে দই-চিড়া খাওয়ার প্রধান কারণ ও সুবিধাগুলো হলো:
তাৎক্ষণিক শক্তি সরবরাহ (Instant Energy Boost): সারাদিন রোজা রাখার পর শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। চিড়ায় থাকা প্রচুর কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate) দ্রুত গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়।
সহজে হজম ও পাকস্থলীর আরাম (Easy Digestion): ভাজাপোড়া খেলে অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা (Acidity or Gastric Problems) হয়। চিড়া-দই খুব সহজপাচ্য হওয়ায় এটি পাকস্থলীকে শান্ত রাখে এবং দইয়ের প্রোবায়োটিক হজমশক্তি বাড়ায়।
পানিশূন্যতা দূর করে (Prevent Dehydration): দই শরীরের পানিশূন্যতা পূরণ করতে এবং ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স (Electrolyte Balance) বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে গরমের রোজায় এটি অত্যন্ত কার্যকর।
পেট ঠান্ডা রাখে (Keep Stomach Cool): না খেয়ে থাকার ফলে সৃষ্ট অম্লতা বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করে পেট ঠান্ডা রাখতে দই অনন্য।
আরও পড়ুন:
প্রোটিনের ভালো উৎস (Source of Protein): দই উচ্চমানের প্রোটিন সমৃদ্ধ যা কোষ পুনর্গঠন ও পেশি গঠনে ভূমিকা রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক (Weight Loss Friendly): এটি একটি কম ক্যালোরিযুক্ত (Low Calorie) এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়।
হাড়ের জন্য উপকারী (Good for Bone Health): দইয়ের প্রচুর ক্যালসিয়াম হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি (Boost Immunity): দইয়ের প্রোবায়োটিক অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং বিভিন্ন সংক্রমণ (Infections) থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
ভালো ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি (Improve Sleep & Reduce Stress): দইয়ে থাকা ট্রিপটোফ্যান মস্তিষ্কে সেরোটোনিন উৎপাদন করে ঘুমের মান উন্নত করে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
তাই এই রমজানে সুস্থ ও সতেজ থাকতে নিয়মিত ইফতার মেন্যুতে (Iftar Menu) তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের পরিবর্তে দই-চিড়া রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুষম ইফতার মেন্যু এবং দই-চিড়া তৈরির গাইডলাইন
২. পানি ঝরিয়ে তাতে আধা কাপ টক দই বা মিষ্টি দই মেশান।
৩. স্বাদ বাড়াতে ১টি কলা বা আম এবং সামান্য মধু যোগ করতে পারেন।
বিভাগ (Category) খাবারের নাম ও প্রস্তুত প্রণালী (Items & Method) প্রাথমিক ইফতার (Starter) ২-৩টি খুরমা খেজুর এবং ১ গ্লাস লেবুর শরবত বা ডাবের পানি। প্রধান ইফতার (Main Item) স্বাস্থ্যকর দই-চিড়া: এটি পাকস্থলী ঠান্ডা রাখে এবং দ্রুত শক্তি দেয়। দই-চিড়া তৈরির পদ্ধতি (How to Prepare) ১. ১ কাপ চিড়া ভালো করে ধুয়ে ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
ফল ও সবজি (Fruits & Veg) শসা, আপেল, তরমুজ বা পেঁপের সালাদ। বর্জনীয় খাবার (Avoid) বেশি তেলযুক্ত বেগুনি, পিঁয়াজু এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কৃত্রিম পানীয়।
আরও পড়ুন:




