Recent event

রমজানের প্রথম জুমা আজ: ফজিলত ও দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তসহ ৮টি গুরুত্বপূর্ণ আমল

জুমার আমল ও গুরুত্ব
জুমার আমল ও গুরুত্ব | ছবি: এখন টিভি
1

আজ ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাসের প্রথম জুমা (First Jummah of Ramadan)। ইসলামে জুমার দিনটি এমনিতেই সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন, আর রমজান মাসে এর গুরুত্ব ও সওয়াব বহুগুণ বেড়ে যায়। পবিত্র জুমার আজান হওয়ার সাথে সাথে সমস্ত কাজ বন্ধ করে আল্লাহর স্মরণে মসজিদে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে জুমার গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, যখন জুমার আজান হয় তখন যেন মুমিনরা বেচাকেনা ও দুনিয়াবি কাজ বন্ধ করে আল্লাহর স্মরণে মসজিদে ধাবিত হয়। (সুরা জুমা: ৯-১০)। হাদিসে রাসুল (সা.) জুমার দিনকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বলেছেন কারণ এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

আরও পড়ুন:

ক্র. নং আমল (Deeds) সংক্ষিপ্ত ফজিলত (Short Virtue)
বিশেষ মর্যাদা অনুধাবন আদম (আ.)-এর সৃষ্টি ও জান্নাতে প্রবেশের দিন।
জুমার নামাজ আদায় দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ হয়।
উত্তমরূপে গোসল করা প্রতি কদমে এক বছরের নফল রোজা ও নামাজের সওয়াব।
মসজিদে আগে প্রবেশ প্রথমে প্রবেশকারী উট কোরবানির সওয়াব পায়।
দোয়া কবুলের মুহূর্ত আছরের শেষ সময়ে দোয়া কবুলের বিশেষ সুযোগ।
সুরা কাহাফ পাঠ দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত থাকে।
খুতবায় নীরবতা পালন মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনলে গুনাহ মাফ হয়।
বেশি বেশি দরুদ পাঠ নবীজি (সা.)-এর কাছে সরাসরি দরুদ পৌঁছানো হয়।

আরও পড়ুন:

জুমার দিনের ৮টি বিশেষ আমল ও ফজিলত (8 Special Deeds and Virtues of Jummah)

১. জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা অনুধাবন (Significance of Jummah)

আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা, জমিনে অবতরণ করানো এবং তার মৃত্যু হওয়া—সবই এই বরকতময় দিনে ঘটেছে।

২. জুমার নামাজ ও গুনাহ মাফ (Jummah Prayer and Forgiveness)

রাসুল (সা.) বলেছেন, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা এবং এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজানের মধ্যবর্তী সময়ে হওয়া ছোটখাটো সব গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেন, যদি ব্যক্তি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। তাই জুমার নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা অত্যন্ত জরুরি।

৩. উত্তমরূপে গোসল করা (Taking Bath on Friday)

জুমার দিন ভালো করে গোসল করা এবং পরিষ্কার পোশাক পরা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে দ্রুত মসজিদে যায়, তার প্রতি কদমের বিনিময়ে এক বছরের নফল নামাজ ও রোজার সওয়াব দেওয়া হয়।

৪. মসজিদে আগে প্রবেশ করা (Going to Mosque Early)

জুমার দিন মসজিদে সবার আগে প্রবেশের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন একটি উট কোরবানি করার সওয়াব পায়। এরপর ক্রমান্বয়ে গরু, ছাগল, মুরগি ও ডিম সদকা করার সওয়াব পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:

৫. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত (Special Moment for Dua)

জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে যখন বান্দা যা চায়, আল্লাহ তা-ই দান করেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, এই বিশেষ সময়টি হলো আছরের শেষ সময় থেকে মাগরিব বা ইফতারের আগ পর্যন্ত (Time before Iftar)। রমজানের প্রথম জুমায় এই মুহূর্তে দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৬. সুরা কাহাফ পাঠ করা (Reciting Surah Al-Kahf)

জুমার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল হলো সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। যে ব্যক্তি এই দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়টি নূর বা আলো দ্বারা আলোকিত হয়ে থাকবে এবং সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।

৭. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা (Listening to Khutbah)

ইমাম যখন খুতবা দিতে দাঁড়ান, তখন কোনো কথা না বলে মনোযোগ দিয়ে তা শোনা ওয়াজিব। যারা খুতবা চলাকালীন কথা বলে বা অন্য কাজে লিপ্ত থাকে, তাদের জুমার সওয়াব নষ্ট হয়ে যায়। খুতবা শোনা ইমানের উন্নতির জন্য বিশেষ সহায়ক।

৮. বেশি বেশি দরুদ পাঠ (Reciting Darood)

জুমার দিন নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ এই দিনে পাঠ করা দরুদ সরাসরি তাঁর কাছে পেশ করা হয়। রমজানের দিনে দরুদ পাঠের সওয়াব আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

দোয়া কবুলের বিশেষ সময়

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, জুমার দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যখন মুসলিম বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায় তা-ই কবুল হয়। অধিকাংশ আলেমের মতে, এই সময়টি হলো আছরের শেষ মুহূর্ত থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:

এসআর