রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময়ই থাকে না গ্যাস। তাই বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করছেন তারা। তবে অনেক সময় লোডশেডিং হলে সেই সুযোগটুকুও থাকে না। রমজানের সময়টাতে ভোগান্তির আশঙ্কায় চিন্তিত।
স্থানীয় একজন বলেন, ‘ইফতারির সময় কেমন করে আয়োজন করবো জানি না। গতবছরেও একই সমস্যা ছিলো। এ বছরও সমাধান পাওয়া হলো না।’
গ্যাস সংকটের চিত্র চোখে পড়বে প্রায় পুরো ঢাকা শহরেই। মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কাফরুল, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ এলাকায় রয়েছে গ্যাসের তীব্র সঙ্কট। পাশাপাশি বনশ্রী, রামপুরা, উত্তরা, শনির আখড়া এ এলাকাতেও দিনের বেশিরভাগ সময় থাকে না গ্যাস। এদিকে, ফাল্গুন ও চৈত্রের মাঝামাঝি সময়ে রোজা পড়ায় লোডশেডিংয়ের আশঙ্কাও করছেন গ্রাহকরা।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়রা জানান, ফজরের সময় গ্যাস থাকলেও সারা দিন গ্যাস থাকে না। আর বিদ্যুৎ সন্ধ্যার পর গেলে সারা রাত আর আসে না।
বর্তমানে তিতাস গ্যাসের এলাকায় দৈনিক চাহিদা ২০০ কোটি ঘনফুটের বেশি হলেও সরবরাহ হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ কোটি ঘনফুট। তিতাস বলছে, রমজানে সরবরাহ সহনীয় রাখতে যমুনা সার কারখানা বন্ধসহ নেয়া হয়েছে বেশ কিছু উদ্যোগ। ওয়াসা ও বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যাশা, আগাম প্রস্তুতির কারণে ভোগান্তি লাঘব হবে কিছুটা।
ডেসকোর নির্বাহী পরিচালক মো. রাশিদুর রহমান বলেন, ‘গতবারের যে সমস্যা হয়েছে তা এ বছর আশা করি হবে না।’
তিতাস গ্যাসের অপারেশন ডির্পামেন্টের মহাব্যবস্থাপক কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, ‘যমুনা সার কারখানাকে বন্ধ রাখা হবে রমজান মাসে। বন্ধ রাখার ফলে ঢাকায় আশাকরা যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখা যাবে। আর শিল্পে কিছুটা চাপ থাকতে পারে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় আগাম সমন্বয়, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং চাহিদা ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পরিকল্পনা না থাকলে ভোগান্তি এড়ানো কঠিন হবে। সেই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হব
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘১৮০০ হাজার মেগাওয়ার্ড বিদ্যুৎ উৎপাদন করার ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য দেড়গুণ জ্বালানি বেশি লাগবে। সে ব্যায় কই থেকে আসবে? অর্থাৎ ঘাটতি বাড়বে। আর সরকারে কাছে জ্বালানি আমদানি করার মতো ডলার নেই। বাফেক্স, সিলেট গ্যাস ফিল্ড, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড এগুলোকে এক সঙ্গে করে একটা প্রতিষ্ঠান করা উচিত।’
এদিকে, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা নির্বিঘ্ন থাকবে এমন প্রত্যাশা নগরবাসীর। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।





