Recent event

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার: দুর্বল অর্থনীতি ও বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ

তারেক রহমান
তারেক রহমান | ছবি: এখন টিভি
0

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষাক্ষেত্রে মিড ডে মিল, ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়াসহ ৫১ দফা ইশতেহার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ইশতেহার বাস্তবায়নে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতাকেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে দলটি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্বল অর্থনীতি পুনরুদ্ধার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ দলটির জন্য। এছাড়া ইশতেহার বাস্তবায়নে রূপরেখা নির্ধারণও জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

ভোটের আগে ভোটার আকৃষ্ট আর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সমন্বিত রূপরেখার অন্যতম মাধ্যম ইশতেহার। প্রচলিত ধারায় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের ঘটা করে প্রকাশ করে দলীয় ইশতেহার। ভোটের আগে তাই বিশেষ নজর থাকে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’- মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে গেল শুক্রবার ঘোষণা হয় বিএনপির ৫১ দফার নির্বাচনি ইশতেহার। আগামী দিনে ক্ষমতায় গেলে গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত নয়টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে দলটি। দলটির ঘোষিত ইশতেহারকে ভাগ করা হয়েছে পাঁচটি ভাগে। যেখানে অগ্রাধিকার পেয়েছে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার, ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, অঞ্চলভিত্তিক সুষম বণ্টনসহ বেশ কয়েকটি বিষয়।

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড চালু, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কৃষক কার্ড, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে দেয়া হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।

অগ্রাধিকার পেয়েছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো। দলটি বলছে, এটি কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, এই ইশতেহার সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তি।

ঘোষিত এ ইশতেহার বাস্তবায়ন কতটা বাস্তবসম্মত? বিশ্লেষকরা বলছেন, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন নিশ্চিতের পাশাপাশি ইশতেহার বাস্তবায়নের রূপরেখা দেয়া জরুরি। নেতৃত্বসুলভ আচরণ আর নিজেদের প্রতিশ্রুতিকে ধারণ করার মাধ্যমেই সহজ হবে বাস্তবায়ন।

আরও পড়ুন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা অতীতকালে সবসময় দেখেছি ইশতেহার ইমপ্লিমেন্ট হয় না। যে কমিটমেন্টগুলো করেছে সেগুলো যদি ধারণ করে এবং ইচ্ছা দেখায় এটিই যথেষ্ট। তবে এগুলোই তো আমরা নেতা নেত্রীদের কাছে পাই না। এখন নেতা নেত্রীদের যে কমিটমেন্ট বা ইশতেহার দিয়েছে এর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে। ’

অর্থনীতিতে গণতন্ত্র ফেরাতে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের পাশাপাশি ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়। ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থানের কথা বলা হলেও বাজার অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতির বিষয়ে সুস্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়নি। তবে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নে জোর দেয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করাই অন্যতম চ্যালেঞ্জ। আর আঞ্চলিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেট ও ক্ষমতায়ন বাড়ানোর পরামর্শ তাদের।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ইকোনমিক প্রসপারিটি প্ল্যান দিয়েছে। তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ইকোনমিক রিকভারি প্ল্যান। রিকভারি প্ল্যানের ক্ষেত্রে সব দলেরই একটি ঘাটতি আমার চোখে পড়েছে। তবে আশার দিক কোনো কোনো দল অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা ঘোষণা দিয়েছে এটি আমার কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে। এ অঞ্চলভিত্তিক কাঠামো তখনই বাস্তবায়ন হবে যখন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষমতায়ন করা হবে।’

ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ়, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও দেশিয় শিল্প সাহিত্যের বিকাশের অঙ্গীকারও ঠাঁই পেয়েছে ইশতেহারে। তবে শুধু ভোটার আকৃষ্টে প্রতিশ্রুতির মধ্যে আবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়নে জোর দেয়ার তাগিদ বিশ্লেষকদের।

এফএস