Recent event

নির্বাচনি সহিংসতায় ইসির ‘ভূমিকা’ নিয়ে প্রশ্ন; কঠোর ব্যবস্থার তাগিদ বিশ্লেষকদের

নির্বাচনি প্রচারণায় সহিংসতা
নির্বাচনি প্রচারণায় সহিংসতা | ছবি: এখন টিভি
0

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি এমন নীরব থাকলে নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা আরও বাড়বে এবং ভোটের হার কমবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সেজন্য আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে সাময়িক প্রচার বন্ধ রাখাসহ ধরন অনুযায়ী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ বিশ্লেষকদের।

হামলা হয় শহরতলীর ডুমনি এলাকায়, ঢাকা-১৮ আসনের শাপলা কলির প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিবের ওপর। সহিংসতা হয়েছে শহরের কেন্দ্রেও। হামলার শিকার একই দলের ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারি। ঘটনাস্থল আলাদা হলেও অভিযুক্ত হামলাকারী দল একই।

ভোটের আর মাত্র দশ দিনও নেই। তখন নির্বাচনি সহিংসতা নিয়ে নড়েচড়ে বসার মতো খবর দিলো টিআইবি। তারা বলছে, ২০২৪ এর আগস্ট থেকে ২০২৫ এর ডিসেম্বর। এ ১৭ মাসে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সহিংসতায় খুন হয়েছে দেড়শর বেশি মানুষ।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, শেখ হাসিনার পতনের পর ১৭ মাসে ৬০০ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। যার ৯১.৭ শতাংশ ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগ ২০, জামায়াতে ইসলামী ৭, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ২, এনসিপি ১ আর জাতীয় পার্টির দশমিক ৮ শতাংশ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

রাজনৈতিক অনুকূল পরিস্থিতিতেও দলগুলো কেন সহিংসতার আশ্রয় নিচ্ছে? প্রশ্ন ছিলো বিশ্লেষকের কাছে।

রাজনৈতিক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘জামায়াতে যে লিডারশীপে আছেন তার কথাই সর্বশেষ। তার কথা মানবে। কিন্তু বিএনপি জোটের মধ্যে সেই জাতীয় শৃঙ্খলা নেই। বহিষ্কার করছে আবার তাদের ফেরত নিয়ে আসছে। সুতরাং বহিষ্কারকে এখন খুব সিরিয়াসলি কেউ নিচ্ছে না। বাইরে থাকার কারণে তার দলের মধ্যে বেশ গ্রুপিং আছে। অনেক জায়গাতেই ওনার কথা শুনছেন না।’

আরও পড়ুন:

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত গেল ৪৫ দিনে সারা দেশে ১৪৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ৫৫টি, ভীতি প্রদর্শন ও আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ১১টি, প্রার্থীর ওপর হামলা ছয়টি, প্রচারণায় বাধা দেয়ার ঘটনা ১৭টি এবং নির্বাচনি অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা আটটি।

টিআইবির তথ্য মতে, গেল ৩৬ দিনে সারা দেশে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। সহিংসতা-সংঘর্ষের এতগুলো ঘটনার পরও জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি নির্বাচন কমিশন। ইসির এমন নীরব অবস্থান একদিকে যেমন সহিংসতার সংখ্যা বাড়াবে, অন্যদিকে ভোটের হার কমবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান বলেন, ‘সহিংসতা করলে আটকানোর কিছু নেই। তাহলে এগুলো বাড়ানোর আরও টেন্ডেন্সি বাড়বে। এর ইম্প্যাক্ট পড়বে ভোটারের ওপরে। এ যে ব্যানার ফেস্টুন ছিড়ে ফেলছে এটি তেমন বেশি কিছু না। তবে এ সামান্য ঘটনাই ট্রিগার করে বড় ঘটনা। প্রার্থীকে সতর্ক করা প্রার্থীকে জরিমানা করা বা প্রার্থীর প্রচারণা একদিনের জন্য বন্ধ রাখা যাই হোক, এ ধরনের শক্ত কোনো ম্যাসেজ যদি দিতে পারতেন, তাহলে প্রার্থীদের মধ্যে এক ধরনের ইনসেন্টিভ তৈরি হতো বেসিক্যালি আমার এ ধরনের কাজকর্ম করা ঠিক হবে না।’

অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী আরও বলেন, ‘শোকজ নোটিশ দিতে পারে বা প্রার্থিতা বাতিল করতে পারে। এছাড়া ইসির হাতেই তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বাহিনীকে কীভাবে কাজে লাগাবে সেটিও দেখার কথা। ২৩ জন লোন ডিফল্টার, ৩০ জন দ্বৈত নাগরিক। ইসির মরাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

বাংলাদেশে নির্বাচন সহিংসতা নতুন কিছু নয়। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর যেমনটা আশা করা হয়েছিল, সেভাবে সহিংসতা কমেনি। বিশ্লেষকদের মতে, সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ততা।

এফএস