তার ইশতেহারের মধ্যে রয়েছে শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং নৈতিক ও সমাজবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এর অংশ হিসেবে নরসিংদীতে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং মাধবদীর শিল্পোন্নয়নের লক্ষ্যে টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়া হয়।
এছাড়া বাবুরহাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদ পুনরুদ্ধার ও নাব্যতা নিশ্চিত করা, ফাইভ স্টার মানের হোটেল নির্মাণ, জেলা স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং একটি মাল্টিপারপাস ইনডোর স্টেডিয়াম স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।
চরাঞ্চলের উন্নয়নে স্থলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার করা এবং সেখানে একটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি নরসিংদী সদরের ড্রেনেজ সিস্টেম সংস্কার করে জলাবদ্ধতা নিরসন, একাধিক শিশু পার্ক স্থাপন এবং মেঘনার চর এলাকাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেয়া হয়।
ইশতেহারে মেঘনা নদী, হাঁড়িধোয়া নদী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীর দূষণ হ্রাস, বালু উত্তোলন সিন্ডিকেট বন্ধ এবং নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়। একইসঙ্গে বাসাবাড়ি, কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।
আরও পড়ুন:
নারীদের তাৎক্ষণিক সেবায় ‘ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার’ চালু এবং ‘আমার আয়ের সংসার’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার কথা বলা হয়। এছাড়া কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, প্রবাসীদের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে আরও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং আনুপাতিক হারে সংসদে প্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেয়া হয়।
ইশতেহারে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে এবং পাঁচ বছরের নিচে সবার জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেয়া হয়। পাশাপাশি হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে ন্যায্য অধিকার সুনিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়।
কওমী ও আলিয়া মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষক-কর্মচারীদের পর্যাপ্ত বেতন-ভাতা প্রদান এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ স্কিল ট্রেনিং কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেয়া হয়। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে থাকবে ফ্রিল্যান্সিং, টেইলারিং, আইটি, হোম কেয়ার সার্ভিস এবং অনলাইন ব্যবসা।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মকবুল হোসেন, সদর আমীর মাহফুজ ভূইয়া, শহর আমীর আজিজুর রহমান, নরসিংদী সদর এনসিপির সমন্বয়ক নূর হোসেন, এবং নরসিংদী জেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আফসার অন্যান্য নেতারা।





