ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে সৌদি আরব

সৌদি যুবরাজ
সৌদি যুবরাজ | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের দিকে আরও একটি যুদ্ধের নৌবহর পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। শিগগিরই তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি চুক্তি হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে, ফোনালাপে সৌদি যুবরাজের কাছে ইরানের প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগত হুমকি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি আরব। উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান বহনকারী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। তিনটি ফুটবল মাঠের সমান এই বিশাল নৌযান রণাঙ্গনে রয়েছে বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন সামরিক সরঞ্জাম। এতে ক্রুসহ সেনা রয়েছে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি।

ইরানে সম্ভাব্য হামলা ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আকাশভিত্তিক সামরিক মহড়া চালানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের এক কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্য হামলা ও সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেয়াই এ মহড়ার মূল উদ্দেশ্য। যদিও মহড়ার নির্দিষ্ট তারিখ বা সময় স্পষ্ট করেনি ওয়াশিংটন।

রণতরীটি আব্রাহাম লিংকন মধ্যপ্রাচ্যে প্রবেশের একদিনের মাথায়ই আবারও ট্রাম্প ঘোষণা দিলের দ্বিতীয় আরেকটি আর্মাদা নৌবহর ইরানের দিকে যাচ্ছে। শিগগিরই ইরান একটি চুক্তিতে আসবে বলে আশা ট্রাম্পের।

আরও পড়ুন:

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তেহরান সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত আছে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের আত্মরক্ষার ক্ষমতাকে একবিন্দু দুর্বল করতে পারবে না বলে সতর্ক করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে কোনো দেশকেই নিজেদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না সৌদি আরব। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এ সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়ে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য দায়ী ওয়াশিংটন।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমিয়ে সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

দেশটিতে সরকারবিরোধী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করে আসছে ইরান। বিক্ষোভ দমাতে আন্দোলনকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঘোষণা দেয় খামেনি প্রশাসন। এরপরই বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নিয়ে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।

ইএ