সিয়াম সাধনার মাস রমজান শুরু হতেই আফগানিস্তানে বাড়ছে তেল, চাল এবং আটার মতো নিত্যপণ্যের দাম। এতে খাদ্য সামগ্রী কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন দেশটির বেশিরভাগ মানুষ। বেশিরভাগ পণ্যের দর নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে দাবি দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সাথে লড়াই করা জনগোষ্ঠীদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গত বছরের তুলনায় দাম অনেক বেড়েছে। আমাদের মতো দরিদ্রদের চাল কেনারও সামর্থ্য নেই। কোনো কিছুই কিনতে পারছি না। দাম দ্বিগুণ হয়েছে। এই রমজানে আমার ১০ লিটার রান্নার তেল কেনার সামর্থ্য নেই। আমার মতো আরও অনেকেরও আয়ও কমে গেছে।
আরও পড়ুন:
যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতির পেছনে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, খরায় খাদ্যশস্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব, উচ্চ বেকারত্ব এবং মানবিক সহায়তার ঘাটতিকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। এতে মূল্যস্ফীতিও দিন দিন বাড়ছে। এসব কারণেই বেশিরভাগ পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। সাহায্যের উপর বাড়ছে নির্ভরশীলতা।
বাসিন্দারা বলেন, ব্যবসায়ীরা অন্তত এই রমজান মাসে মুসলিমদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন। এই মাস দান করার সময়। তাই যতটা সম্ভব পণ্যের দাম কমানোর চেষ্টা করা উচিত। এতে মানুষ কিছুটা হলেও উপকৃত হবে। রমজান হলো বরকতময় মাস, আল্লাহর ক্ষমা ও প্রচুর নিয়ামত লাভের মাস। এই মাসে আল্লাহ প্রতিটি সৎকর্মের জন্য প্রতিদান দান করেন। বলা হয় যে যে ব্যক্তি রোজা রাখেন, তিনি আল্লাহর আরশের নিচে শান্তিতে থাকেন।
পরিসংখ্যান বলছে, সাড়ে ৫ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে লড়াই করছে আফগানিস্তান। রোজা শুরু হতেই ২১ কেজি ওজনের এক বস্তা চালের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে আফগান মুদ্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। যা তিন মাস আগেও ছিলো ৩ হাজার টাকা।
এ অবস্থায় ২০২৬ দেশটির প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ। যা আফগানিস্তানের যুদ্ধ-পরবর্তী জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।





