সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য বলছে, ওরা উস্কানি দিচ্ছে যাতে হামলা হয়: মির্জা আব্বাস

মির্জা আব্বাস
মির্জা আব্বাস | ছবি: এখন টিভি
1

হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় বিএনপিকে, বিশেষ করে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে দুষছে এনসিপি। তবে এই অভিযোগের জবাবে তিনি বলেছেন, এগুলো সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য বলছে। তবে ওরা উস্কানি দিচ্ছে, যাতে হামলা করা হয়।

আজ (মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মালিবাগ গুলবাগে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা আব্বাসের সমর্থকদের বিরুদ্ধে এনসিপির নেতাকর্মীকে আক্রমণ করার যে অভিযোগ উঠছে, সেটিকে সম্পূর্ণভাবে ‘মিথ্যা কথা’ উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি ১৯৯১ সাল থেকে নির্বাচন করি। এ পর্যন্ত বিএনপি সমর্থকরা কোনো অপজিট প্রার্থীর ওপর হামলা করে নাই। কোনো রেকর্ড নাই। এগুলো সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য বলছে। তবে ওরা উস্কানি দিচ্ছে, যাতে হামলা করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন ভণ্ডুল করার জন্য যারা চেষ্টা করছে, এটা তাদেরই কাজ। আমাদের কাজ না। নির্বাচন আমাদের আকাঙ্ক্ষিত ফসল। আমরা আদায় করেছি আন্দোলন করে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সুতরাং, নির্বাচন ভণ্ডুল করার কোনো কারণ আমাদের নেই। আমি সকাল ১০টা থেকে প্রচারণা চালাচ্ছি, কোথায় কী ঘটতেছে বাংলাদেশে, আমার কাছে কোনো খবর নাই। আমি আমার এলাকা নিয়ে আছি।’

আরও পড়ুন:

যে যত কথাই বলুক, কারো ফাঁদে পা দেবো না— উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি আমার ভোট চাইবো, আপনারাও ভোট চান। কিন্তু এলাকার জন্য কী করেছেন, আর কী করবেন— তা জনগণের সামনে তুলে ধরুন।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘চাঁদাবাজির তকমা লাগিয়ে নির্বাচন করা যাবে না। যারা এসব অভিযোগ তুলছে, প্রকৃত চাঁদাবাজি তারাই করছে। তাহলে চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না কেন? যারা লাল কার্ড দেখানোর কথা বলছেন, ১২ তারিখে জনগণই তাদের লাল কার্ড দেখাবে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি আমার দোষ। এটাকে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। কোথায় কী হয়ে যায়— সব দোষ যেন আমারই।’

তিনি বলেন, ‘আমি তরুণ বয়সে ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছি। শহরজুড়ে আমার আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত মানুষ রয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রামের সময় এ এলাকার মানুষ হাত তুলে আমাকে সমর্থন দিয়েছে। পুলিশি হামলার সময় বিভিন্ন মার্কেটে আশ্রয় নিয়েছি। অন্য প্রার্থীরা কি আন্দোলনে এমন ভূমিকা রেখেছে?’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের সময় কিছু অতিথি পাখি দেখা যায়, পরে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। আমি ১৯৯১ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। কেউ বলতে পারবে না— আমাকে পাওয়া যায়নি। আমি অনেকবার এমপি ছিলাম। কেউ বলতে পারবে না আমার কাছে এসে খালি হাতে ফিরে গেছে। তবে যা পারবো না, তার মিথ্যা আশ্বাস দেইনি।’

এসএস