একটি শহর ধুলোর সঙ্গে মিশিয়ে দিতে একটির বেশি দুটি পারমাণবিক বোমার প্রয়োজন নেই। ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট এর ভয়াবহ নজিরও দেখেছে বিশ্ব। যার কারণে জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক হামলার সেই দিনটিকে ইতিহাসের কালো অধ্যায় হিসেবে আজও স্মরণ করা হয়। ৮০ বছর আগে লাখো মানুষের মৃত্যুতেও অভিশপ্ত পারমাণবিক অস্ত্রের ঝনঝনানি কমেনি। বরং দিনকে দিন বাড়ছে।
১৯৪৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী চালানো হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা। এ তালিকায় আছে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, ভারত, ইসরাইল এবং উত্তর কোরিয়া। এর নেতিবাচক প্রভাবে অকালমৃত্যু হয়েছে ৪০ লাখের বেশি মানুষের। পারমাণবিক বোমার বিকিরণে ক্যান্সার, হৃদরোগ, ভ্রূণ নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং জেনেটিক প্রভাবে আজও অকাল প্রাণহানির ঝুঁকি রয়ে গেছে।
অতীতে চালানো নিউক্লিয়ার টেস্টের সময়কার জীবিত প্রতিটি ব্যক্তি তাদের হাড়ে আজও তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বহন করে বেড়াচ্ছেন। নরওয়েজিয়ান ‘পিপলস এইড-এনপিএ’ নামক মানবিক সংস্থার প্রকাশিত ৩০৪ পৃষ্ঠার নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
আরও পড়ুন:
এমনকি তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের গবেষণা এবং অবস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিভিন্ন দেশ গোপন রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের চাহিদা পূরণে ক্ষতিপূরণ প্রকল্পগুলো ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদনটি এমন একসময় প্রকাশ করা হলো যখন পৃথিবীতে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। কারণ রাশিয়া ও চীন নিউক্লিয়ার টেস্ট অব্যাহত রেখেছে অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রও পুনরায় তা শুরুর হুমকি দিয়ে রেখেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ওয়াশিংটনের অভিযোগটি অস্বীকার করেছে মস্কো-বেইজিং।
পারমাণবিক-সশস্ত্র রাষ্ট্রগুলোর কেউ কখনোই পরীক্ষার জন্য ক্ষমা চায়নি। এ অবস্থায় এ অভিশাপ থেকে বিশ্ববাসী মুক্তি পাবে কি না তাও বলা মুশকিল। কারণ ২০২২ সাল থেকে এখনও চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। চীন-তাইওয়ান সংকট তো আছেই। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের বিরোধ সমীকরণও দিন দিন জটিল হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মজুদ থাকা পরমাণু অস্ত্র দিয়ে পৃথিবীকে দেড়শো বার উড়িয়ে দেয়া সম্ভব বলে গত বছর হুমকিও দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অন্যদিকে রাশিয়াও দাবি করছে, তাদের ভাণ্ডারে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী পরমাণু বোমা। যা হিরোশিমায় ফেলা লিটল বয়ের তুলনায় তিন হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। এছাড়া বিভিন্ন পরিসংখ্যান তথ্য বলছে, নয়টি দেশে আছে ১২ হাজারের বেশি পারমাণবিক অস্ত্র। যেখানে ওয়াশিংটনের চেয়েও এগিয়ে মস্কো।





