নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রচারণার জন্য মোট ২০ দিন সময় নির্ধারণ করেছে। প্রার্থীরা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তাদের প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে এবারের নির্বাচনি আচরণবিধি (Election Code of Conduct) মেনে চলার ক্ষেত্রে ইসি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা (Ban on Election Posters)
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক হলো পোস্টার ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা (Ban on using posters)। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রচলিত কোনো কাগজ বা ডিজিটাল পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া যে কোনো প্রচারসামগ্রীতে পলিথিন বা রেকসিন (Polythene and Rexine in campaign) ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিলবোর্ড ও ব্যানারে বিধিনিষেধ (Restrictions on Billboards and Banners)
প্রার্থীরা পোস্টার ব্যবহার করতে না পারলেও সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড (Election Billboard) ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি বিলবোর্ড ১৬ ফুট দৈর্ঘ্যে এবং ৯ ফুট প্রস্থের বেশি হতে পারবে না। ব্যানার ও ফেস্টুন (Banner and Festoon rules) অবশ্যই সাদা-কালো হতে হবে। ব্যানারের সর্বোচ্চ মাপ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট এবং ফেস্টুনের মাপ ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এআই (Social Media and AI Guidelines)
বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণা (Election campaign on social media) অনুমোদিত হলেও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অ্যাকাউন্ট আইডি ও ই-মেইল জমা দিতে হবে। তবে অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Misuse of Artificial Intelligence in election) ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো প্রকার গুজব বা ভুয়া সংবাদ (Fake news and rumors) ছড়ালে তা নির্বাচনি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
আরও পড়ুন:
সভা-সমাবেশ ও জানবাহন (Public Meeting and Transport Rules)
প্রার্থীরা নির্বাচনি জনসভা (Election public meeting) করতে পারবেন, তবে তার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে হবে। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এমন কোনো স্থানে সভা করা যাবে না। এছাড়া মোটরসাইকেল শোডাউন (Motorcycle showdown), বাস-ট্রাক বা নৌযান নিয়ে মিছিল করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কেউ হেলিকপ্টার (Use of helicopters in campaign) ব্যবহার করতে পারবেন না।
প্রার্থীর ছবি ও প্রতীক (Candidate Photo and Symbol rules)
প্রচারসামগ্রীতে প্রার্থী নিজের এবং কেবল দলীয় প্রধানের ছবি (Political party chief photo) ব্যবহার করতে পারবেন। প্রার্থীর ছবি হতে হবে শুধু পোর্ট্রেট আকারে এবং প্রতীকের উচ্চতা ৩ মিটারের বেশি হওয়া যাবে না। ভোটারদের দেওয়া স্লিপে প্রার্থীর নাম বা প্রতীক (Candidate name and symbol on voter slip) থাকা চলবে না।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তি (Punishment for code of conduct violation)
ইসি সতর্ক করে জানিয়েছে, কেউ যদি এই নির্বাচনি আইন (Election Laws of Bangladesh) ভঙ্গ করেন, তবে তাকে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা ১.৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। এমনকি অপরাধ গুরুতর হলে প্রার্থিতা বাতিল (Cancellation of candidacy) করার ক্ষমতাও কমিশনের হাতে রয়েছে।
আরও পড়ুন:
নির্বাচনি প্রচারণা: প্রার্থীরা যা করতে পারবেন না (নিষেধাজ্ঞার তালিকা)
বিষয়
যা যা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (নিষেধাজ্ঞা)
পোস্টার (Posters)
কোনো ধরনের কাগজ বা ডিজিটাল পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না।
রঙিন প্রচারণা (Color Print)
ব্যানার, লিফলেট বা ফেস্টুন রঙিন ছাপানো যাবে না (অবশ্যই সাদা-কালো হতে হবে)।
পলিথিন ও রেকসিন
প্রচারণা সামগ্রীতে কোনোভাবেই পলিথিন বা রেকসিন ব্যবহার করা যাবে না।
ছবি ব্যবহার
নিজের পোর্ট্রেট ও দলীয় প্রধান ছাড়া অন্য কোনো নেতার ছবি ব্যবহার করা যাবে না।
যানবাহন শোডাউন
ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল বা নৌযান নিয়ে কোনো প্রকার শোডাউন বা মিছিল করা যাবে না।
মশাল মিছিল
যানবাহন সহকারে বা পায়ে হেঁটে কোনো ধরনের মশাল মিছিল করা যাবে না।
রাস্তা অবরোধ
জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে সড়ক বা জনপথে সভা-সমাবেশ করা যাবে না।
আকাশযান ব্যবহার
দলীয় প্রধান ও সেক্রেটারি জেনারেল ছাড়া অন্য কারও হেলিকপ্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ।
ধর্মীয় উসকানি
প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা কোনো গোষ্ঠী সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)
অসৎ উদ্দেশ্যে বা বিকৃত তথ্য ছড়াতে এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে না।
তোরণ ও আলোকসজ্জা
প্রচারণার জন্য কোনো প্রকার তোরণ (গেট) নির্মাণ বা আলোকসজ্জা করা যাবে না।
ভোটার স্লিপ
ভোটারদের দেওয়া স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি বা প্রতীক উল্লেখ করা যাবে না।
বিলবোর্ড সীমাবদ্ধতা
কোনোভাবেই একটি আসনে ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে না।
বিদেশে প্রচারণা
প্রার্থীর পক্ষে বিদেশের মাটিতে কোনো প্রকার সভা বা সমাবেশ করা নিষিদ্ধ।
সতর্কতা: এই আচরণবিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের জেল, ১.৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে।





