শীতে চাঁদপুরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত বেড়েছে দ্বিগুণ, ঝুঁকিতে শিশুরা

হাসপাতালে রোগী | ছবি: এখন টিভি
1

এবারের শীতে চাঁদপুরের আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু। রোগীর বাড়তি চাপ সামাল দিতে ২৪ ঘণ্টাই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে, রোটা ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে শীতে শিশুদের বিশেষ যত্নের পাশাপাশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

হাসপাতালের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিদিন শত শত রোগী ভিড় করছেন চাঁদপুরের আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে। বেশিরভাগই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এদিকে দেড় বছরের শিশু আরহামকে নিয়ে হাসপাতালে মা আইনীন নাহার। ৫ দিন আগে প্রথমে বমি, এরপর শুরু হয় তীব্র ডায়রিয়া। প্রাথমিক চিকিৎসায় অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় নোয়াখালী থেকে শিশুকে নিয়ে চাঁদপুরের আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে ছুটে আসেন তিনি।

আইনীন নাহার জানান, প্রথমে বমি শুরু হয় এর একদিন পর পাতলা পায়খানা হলে জ্বর ওঠে। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেয়ার পর আশানুরুপ চিকিৎসা পায়নি।

প্রতিদিন ঠান্ডা-জ্বর নিয়ে ভিড় করছেন হাসপাতালে। শীতের প্রকোপ বাড়ার পাশাপাশি ডায়রিয়ায় সংক্রমণও বেড়েছে কয়েকগুণ, যার বড় ভুক্তভোগী শিশুরা। রোগীর স্বজনরা জানান, ৪-৫ দিন ধরে বমি-ঠান্ডা-কাশি, জ্বর পাতলা পায়খানা, কোনভাবেই কমছে না।

আরও পড়ুন:

শীতকালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তারা।

চিকিৎসকরা জানান, প্রতি বছর শীত আসলেই ডায়রিয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। এটি মূলত ভাইসার ডায়রিয়া, মূলত রোটা ডায়রিয়া। সাধারণ সময়ে যেখানে রোগী ভর্তি হয় ৮০ থেকে ১০০ জন; সেখানে শীতে দ্বিগুন অথবা তিনগুন বেড়ে যায়।

চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এসময় বাচ্চাদের শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। এথেকে রক্ষা পেতে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর বাচ্চার ওজন অনুযায়ী স্যালাইন খাওয়াতে হবে।

আরও পড়ুন:

হাসপাতালের তথ্য বলছে, চাঁদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও শরীয়তপুর জেলার ৩৫টি উপজেলা থেকে রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ১০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হচ্ছেন প্রায় আড়াইশো রোগী, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যা দ্বিগুণেরও বেশি।

আইসিডিডিআরবি’র মতলব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য গবেষণা কেন্দ্র প্রধান ডা. মো. আল ফজল খান বলেন, ‘ডায়রিয়া যেহেতু পানিবাহিত রোগ, সেজন্য অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। এর সঙ্গে হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার করা খুবই জরুরি।’

উল্লেখ্য, গেল দেড় মাসে আইসিডিডিআরবিতে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ১১ হাজার রোগী। এদের মধ্যে ৮৫ ভাগই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু।

জেআর