Recent event

আন্দোলনে উত্তাল ইরান: বিক্ষোভকারীদের ‘বিদেশি ভাড়াটে’ বললেন খামেনি

আন্দোলনে উত্তাল ইরান | ছবি: এখন টিভি
1

ইন্টারনেট বন্ধে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ইরান। চলমান আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ জনে। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির। চলমান সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আন্দোলনকারীদের বললেন ‘বিদেশি ভাড়াটে’।

এককালের মহানায়ক, জনতার তোপে আজ খলনায়ক। ফার্স প্রদেশে ইরানের অভিজাত সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান, প্রয়াত কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ মানুষ।

অর্থনৈতিক সংকটের জেরে চলমান বিক্ষোভ, রূপ নিয়েছে সহিংস সরকারবিরোধী আন্দোলনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার পর, গতকাল (শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি) বন্ধ করা হয় মোবাইল পরিষেবাও। ফলে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম এ শক্তি।

বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালিয়েছে ইস্পাহানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন, গভর্নর অফিসসহ বহু সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, পুলিশের গাড়িতে, দিয়েছে আগুন। দাবি উঠেছে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদত্যাগের। এ অবস্থায় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন নব্বইয়ের দশক থেকে ক্ষমতায় থাকা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। পরিস্থিতির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে জানান, মার্কিন প্রশাসন ও বিদেশি শত্রুর কলকাঠির অংশ হয়ে দেশকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেয়া সহ্য করবে না তার প্রশাসন।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ‘কয়েক লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা। যারা ধ্বংসে বিশ্বাস করে এবং যারা বিদেশিদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে তাদেরকে সহ্য করা হবে না। যুবকদের ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। অবিভক্ত জাতি সবসময়ই শত্রুদের রুখে দিতে সক্ষম।’

আরও পড়ুন:

গেল বছরই ইরানে বোমা হামলা চালানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রয়োজনে আবারও দেশটিতে শক্তি প্রয়োগ করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। এক বেতার সাক্ষাৎকারে জানান, বিক্ষোভকারীদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান, দেশটির প্রয়াত শাসকের ছেলে, ইরানি রাজতন্ত্রের শেষ উত্তরাধিকারী, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি।

তিনি বলেন, ‘ইরানের সাহসী ও ঐক্যবদ্ধ জনগণ ইতিহাস রচনা করেছে এমন সময়ে সবাইকে কোথায় দাঁড়াতে হবে তা সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে। অপরাধী সরকারি বাহিনীর পাশে নাকি জনগণের পাশে দাঁড়াবে সেই সিদ্ধান্ত ইরানসহ বিশ্ববাসীকে নিতে হবে।’

ইরানে চলমান সংকটের নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রেজা পাহলভির যোগসূত্রকে তেহরান দায়ী করলেও, পাহলভিকে সমর্থন দেয়ার বিষয়ে এখনও ভাবছেন না বলে দাবি ট্রাম্পের। এদিকে রাজধানী তেহরান থেকে ৩১টি প্রদেশের তিনশোর বেশি শহর ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে বিক্ষোভ। প্রায় দুই সপ্তাহে নিহতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে অর্ধশত।

এফএস