মওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ ইরফানুল বারীর প্রয়াণ

সৈয়দ ইরফানুল বারী
সৈয়দ ইরফানুল বারী | ছবি: সংগৃহীত
1

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সহচর শিক্ষক, গবেষক ও লেখক সৈয়দ ইরফানুল বারী মৃত্যুবরণ করেছেন ‎(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী স্টাডিজ কোর্সের অধ্যাপক ছিলেন।

আজ (শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে টাঙ্গাইল শহরের সন্তোষের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে বয়স ছিল প্রায় ৮১ বছর। তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, কয়েকদিন ধরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। আজ (শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি) হঠাৎ অবস্থার অবনতি হলে বাসভবনেই তার মৃত্যু হয়। ‎

সৈয়দ ইরফানুল বারীর মৃত্যুতে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও গবেষকরা বলছেন, তার মৃত্যু ভাসানী গবেষণা ও রাজনৈতিক চিন্তাচর্চার ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবন, গবেষণা ও লেখালেখি আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

স্বাধীনতার পরপরই তিনি মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং তার ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

আরও পড়ুন:

তিনি মওলানা ভাসানী প্রতিষ্ঠিত 'সাপ্তাহিক হক-কথা’র সম্পাদক ছিলেন। মওলানা ভাসানীর জীবন, দর্শন এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে তিনি অনেক বই লিখেছেন, যেমন ‘মওলানা ভাসানীর কৃষক সমিতি’ ও ‘নানান মাত্রায় মওলানা ভাসানী’।

শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সৈয়দ ইরফানুল বারী মওলানা ভাসানীর আদর্শ ও সংগ্রামকে ধারণ করে তার স্মৃতি রক্ষায় কাজ করেছেন। তিনি একজন দৃঢ়চেতা ও নির্ভীক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত, যিনি নিজের জীবনকে মওলানা ভাসানীর আদর্শের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। 

জানা যায়, ‎‎১৯৪৫ সালের ১ মার্চ কিশোরগঞ্জে জন্ম নেয়া সৈয়দ ইরফানুল বারী ১৯৬০-এর দশকের উত্তাল রাজনৈতিক সময়েই রাজনীতিতে যুক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করা ও সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ১৯৬৭ সালে মওলানা ভাসানীর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিবেদন করেন।

১৯৬৯ সাল থেকে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি হয়ে ওঠেন তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর। ‎দীর্ঘ সময় দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সুযোগ থাকলেও তিনি কখনো সন্তোষ-আশ্রমের আদর্শ ছেড়ে যাননি। ভাসানীর ত্যাগ, মানবিক রাজনীতি ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদর্শই ছিল তার জীবন চিন্তা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে মওলানা ভাসানী স্টাডিজ কোর্স চালুর পর থেকেই শিক্ষক হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরছিলেন মওলানা ভাসানীর লড়াই, আন্দোলন ও দিকনির্দেশনামূলক চিন্তাধারা।

এএম