এশিয়া
বিদেশে এখন
হতাশ-দুশ্চিন্তাগ্রস্ত জাপানের ৬৩ শতাংশ মানুষ
বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ হলেও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন জাপানের বেশিরভাগ নাগরিক। তারা ভবিষ্যৎ নিয়েও বেশ চিন্তিত। দেশটির বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের হতাশার চিত্র গেল তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, লাভ কমে যাওয়ায় নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে না কেউ।

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপান। সম্প্রতি দেশটির সরকারি জরিপে দেখা যায়, জাপানের রেকর্ড ৬৩ শতাংশ মানুষ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ভবিষ্যৎ জীবন নিয়েও আশঙ্কায় আছেন। ১৮ বছরের বেশি বয়সী তিন হাজার মানুষের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। অর্থনৈতিক চাপ অনুভব করা মানুষের হার আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক সাত শতাংশ বেড়েছে।

জরিপে অংশ নেয়া প্রায় ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা জাপানের নেতিবাচক অর্থনীতির জন্য অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতিকে দায়ী করেছে। মজুরি বাড়লেও তা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য নয়। জনসংখ্যার বড় একটি অংশ দেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এছাড়া, নারীদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা, সন্তান লালনপালন ব্যয়বহুল, তরুণদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং কর্মক্ষেত্রে অসন্তুষ্টির কথা জরিপে উঠে আসে।

গত নভেম্বরে বেসরকারি এক জরিপের তথ্য বলছে, পরিবারে একাধিক উপার্জনকারী থাকার পরও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ৪৬ শতাংশ মানুষ। পরিবার চালাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। তবে দেশটির সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সেবাখাত নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট।

এদিকে, জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, দেশটির বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা দিন দিন কমছে। লাভের মুখ দেখতে না পেরে দিশেহারা অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান। তবে ব্যাংক অফ জাপান বলছে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে পারলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

চলতি বছর জাপানে শিল্প উৎপাদন অপ্রত্যাশিতভাবে কমেছে, এমনকি জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মান কমায় ভোগব্যয়ও অত্যধিক বেড়েছে। তবে ফেব্রুয়ারিতে রেকর্ড সংখ্যক বিদেশি পর্যটক জাপানে এসেছে। যা আবাসন, খাদ্য ও পানীয় সেক্টরে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

জাপানের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যাশা আগামী অর্থবছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েন শক্তিশালী হবে। যা কোম্পানিগুলোর মূলধনের বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়তা করবে।

এমএসআরএস