দেশে এখন
কোনভাবেই মশার উপদ্রব থেকে মুক্তি মিলছে না
মশার অত্যাচারে রাজধানীবাসীকে দিনের বেলাতেও কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে। এছাড়া পরিষ্কার না করাতে পানি জমে থাকা পাত্রে মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে।

ডিএনসিসি’র সচেতনতামূলক বোর্ড। ছবি: এখন টিভি

‘আপনার শহর পরিষ্কার রাখুন’ সিটি করপোরেশনের এরকম জনসচেতনতামূলক লেখার ঠিক পাশেই ভাঙা ফুলের টবে বৃষ্টির পানি জমে আছে। পাশেই ডাবের খোসা, বিভিন্ন প্যাকেটেও জমে আছে দুই-একদিন আগের বৃষ্টির পানি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ড, উত্তরা মডলে টাউন ১ হতে ১০ নম্বর সেক্টর, এছাড়া আব্দুল্লাহপুর, পুরাকরৈ, শৈলপুর, ফায়দাবাদ, বাউনিয়া, দক্ষিণ খান ও রানাভোলার আংশিক অংশ নিয়ে এই ওয়ার্ড। উত্তরা সেক্টর কল্যাণ সমিতিকে প্রতি মাসেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ বাড়িওয়ালাদের ৩ হাজার টাকা গুণতে হয়। তবুও ঠিকঠাক পরিষ্কার হয় না ময়লা, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করা হয় না। ছবি: এখন টিভি

স্থানীয়রা বলেন, ‘শুনি তো, ময়লা পরিষ্কার করা হয়। তারপরও মশা কমে না। আর মশার ওষুধও দিতে দেখি না, আগে তো দেখতাম। আমরা টাকা দিলেও সেই সুবিধাও পাচ্ছি না। এতো মশার কারণে কোথাও বসা যায় না।’

এদিকে এসব এলাকায় দিনের বেলাতেও কয়েল জ্বালিয়ে বসে থাকতে হয়। অন্যান্য যেকোন এলাকার চেয়ে উত্তরাতে লেক বেশি হওয়াতে মশার পরিমাণও বেশি। লেক পরিষ্কার কার্যক্রম চলমান থাকলেও মশার উপদ্রব কমেনি। এছাড়া প্রতিনিয়ত ড্রেন পরিষ্কার না করাতে সেখানে কিউলেক্সের লার্ভা জন্ম নিচ্ছে। আর রাস্তা পরিষ্কার না করাতে ফেলে দেয়া বিভিন্ন পাত্রে বৃষ্টির পানি জমে থাকছে। যেখান থেকে হতে পারে এডিসের লার্ভা।

এক বাসিন্দা বলেন, ‘দিনে-রাতে অনেক মশা, কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। সিটি কর্পোরেশন থেকে আমাদের এখানে কোনো ওষুধ দেয়া হয় না। আমরা মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ।’

এদিকে উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর, পুরাকরৈ, শৈলপুর, ফায়দাবাদ, বাউনিয়া, দক্ষিণ খান এলাকাগুলোতে অনেক নির্মাণাধীন বাড়ির কাজ চলছে। আবার কিছু এলাকায় কনস্ট্রাকশনের কাজ বন্ধ আছে। যেগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে আছে। এদিকে গতবছর এই ওয়ার্ডের বিভিন্ন নির্মাণাধীন বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়াতে জরিমানা করে ডিএনসিসি। এতোকিছুর পরও দেখার কেউ নেই, আর মশার ওষুধ শেষ কবে দেয়া হয়েছে অনেকেরই তা মনে করতে হচ্ছে।

অনেকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ছবি: এখন টিভি

এদিকে এসব বিষয় নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফছার উদ্দিন খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যাচ্ছে না। একবার কথা বলার আশ্বাস দিলেও পরে তাকে ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না।

এওয়াইএইচ