Recent event

রপ্তানি জটিলতায় ধাক্কা খেয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মিষ্টি কুমড়া চাষ

মিষ্টি কুমড়া
মিষ্টি কুমড়া | ছবি: এখন টিভি
0

মিষ্টি কুমড়া চাষে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষকেরা। এখানকার উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি একাধিকবার বিদেশেও রপ্তানি হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে সেই সাফল্যে ভাটা পড়েছে। বিদেশে রপ্তানিতে নানা জটিলতা দেখা দেয়ায় কাঙ্ক্ষিত বাজারমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকেরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার তালপল্লী এলাকায় সড়কের দুই পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে মিষ্টি কুমড়া। কিন্তু পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় সেগুলো বিক্রি হচ্ছে না। এতে চাষিদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

গোহালবাড়ী এলাকার কৃষক মাসুদ রানা গত চার বছর ধরে মিষ্টি কুমড়া চাষ ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত। তবে চলতি মৌসুমে রপ্তানি করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি। মাসুদ রানা বলেন, ‘গত বছর যেভাবে মিষ্টি কুমড়া বিদেশে গেছে, এবার কেন রপ্তানি করা যাচ্ছে না—তা বুঝতে পারছি না।’

কৃষকদের দাবি, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদন কম হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন সমস্যা, রপ্তানি প্রক্রিয়ার জটিলতা ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে মিষ্টি কুমড়া বিক্রিতে সংকট তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন:

তারা জানান, গত বছর যেখানে প্রতি বিঘায় ৫০ থেকে ৬০ মণ উৎপাদন হতো, সেখানে এবার উৎপাদন নেমে এসেছে ২০ থেকে ২৫ মণে। এতে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় লাভ কমে গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন প্রক্রিয়া, সরবরাহ চেইন ও রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতির কারণে বিদেশের বাজারে পৌঁছানো যাচ্ছে না চাঁপাইনবাবগঞ্জের মিষ্টি কুমড়া। উৎপাদনের সময়সূচির পরিবর্তনও রপ্তানিতে প্রভাব ফেলেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, ‘রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো অবকাঠামোর অভাব। আন্তর্জাতিক মানের রপ্তানি অবকাঠামো না থাকায় আমরা পিছিয়ে পড়ছি।’

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভোলাহাট উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন মিষ্টি কুমড়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১০০ কোটি টাকা। তবে রপ্তানি ও বাজার সংকট কাটাতে না পারলে এই সম্ভাবনাও মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

ভোলাহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আলী বলেন, ‘বিদেশে যেসব মিষ্টি কুমড়ার চাহিদা রয়েছে, সেগুলো সাধারণত কাঁচা ও বড় আকারের। এ ধরনের জাত আমাদের এলাকায় তুলনামূলক কম চাষ হয়। তাছাড়া রপ্তানির উপযুক্ত সময়ে অতিবৃষ্টির কারণে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এ বছর রপ্তানি সম্ভব হয়নি।’

জেআর