
অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বাংলাদেশ থেকে বিদেশ গমনে অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারণে জমিজমা বিক্রি করে প্রবাসীদের ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে আসতে হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই খরচ কমিয়ে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে।’

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার-অভিবাসন জটিলতা সমাধানে আশার আলো
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন কারণে এখনও বন্ধ আছে এ শ্রমবাজার। যেকারণে প্রধানমন্ত্রীর সফরে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে শ্রমবাজার খোলার বিষয়। সরকার প্রধানের এ সফরে শ্রম অভিবাসন জটিলতা নিরসনের পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় সমন্বয় চায় শ্রমিক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমবাজার নিয়ে বড় সুখবর না এলেও এ সফর নতুন আলোচনার পথ তৈরি করবে।

অভিবাসন ব্যয় কমাতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় জোর দেয়ার আহ্বান প্রবাসীদের
কাজের সন্ধানে প্রতিবছর দেশ ছাড়ছেন লাখো বাংলাদেশি। মধ্যপ্রাচ্যের পথ ধরতে অভিবাসন প্রত্যাশীদের খরচ হয় পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা। ভিসার হাত বদলের কারণে এই ব্যয় বাড়তে থাকে ক্রমান্বয়ে। এতে করে অনেক কর্মীর এই খরচ তুলতে লেগে যায় কয়েকবছর। তাই বিদেশে কর্মী পাঠাতে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে সরকারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছেন প্রবাসীরা।

অভিবাসন ব্যয়ের চাপে বিদেশে পাঠানো যাচ্ছে না পর্যাপ্ত শ্রমিক
বিদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হওয়ায় বদলে যাচ্ছে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দক্ষিণ কোরিয়ায় চাহিদা থাকলেও কোটা অনুযায়ী সেখানে শ্রমিক পাঠাতে পারছে না বাংলাদেশ। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অভিবাসন ব্যয়ের কারণে দক্ষতা থাকলেও অনেকেই যেতে পারেন না বিদেশে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে অভিবাসন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি অবৈধ রেমিট্যান্স লেনদেনের লাগাম টানার তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।

নানা প্রতিবন্ধকতায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
নানামুখী জটিলতায় ভুগছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দেশটিতে প্রবেশের সবশেষ সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে ৩১ মে। তবে কর্মী পাঠানো বন্ধ হবে না বলে আশ্বাস প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর। নতুন করে কোটা পেতে দেশটির সাথে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

অভিবাসন ব্যয়ের বিপরীতে প্রবাসী আয় কম
সরকার নির্ধারিত খরচে বাংলাদেশি কর্মীদের বিদেশ পাড়ি দেয়া অনেকটা স্বপ্নের মতো। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে তা যেন ফিকে হয়ে যায়। পরিসংখ্যান বলছে, একজন বাংলাদেশিকে বিদেশ পাড়ি দিতে গড়ে খরচ করতে হয় ৪ লাখেরও বেশি টাকা। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়তি ব্যয় কমাতে রিক্রুটিং ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজন কঠোর নজরদারি। এদিকে, জিটুজি চুক্তি মেনে অভিবাসন ব্যয় কমানোর আশ্বাস প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অভিবাসন ব্যয় বাড়ছে
বহির্বিশ্ব থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোয় এখনও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীরা শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। যদিও ক্রমাগতই অভিবাসন ব্যয় বাড়ছে। প্রবাসীরা বলছেন, অতিরিক্ত বিমান ভাড়া ও মধ্যস্বত্বভোগীরাই এজন্য দায়ী।