বিশ্বকাপে ড্র, তবু উচ্ছ্বাসে ভাসছে ইরানের সমর্থকরা

ইরানের সমর্থকরা
ইরানের সমর্থকরা | ছবি: সংগৃহীত
0

বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ড-ইরানের ম্যাচ ড্র-কে একটি প্রতীকী রাজনৈতিক জয় হিসেবে দেখছেন তেহরানের সমর্থকরা। প্রচণ্ড রাজনৈতিক ও মানসিক চাপের মুখে উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে ইরান দু’বার পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র করে। যুদ্ধ অবসানের আবহে এটিকে দলের বড় অর্জন হিসেবে দেখছে উচ্ছ্বসিত ইরানিরা।

খেলা শুরুর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ড-ইরানের ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনার কমতি ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের উত্তেজনা খেলার মাঠ ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় রাজনীতির ময়দানেও। দুই দেশের অস্থিরতার কারণে ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি বেশ বিঘ্নিত হয়। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রে হলেও, নিরাপত্তা ইস্যুতে তাদের অনুশীনের ব্যবস্থা করা মেক্সিকোর তিজুয়ানায়।

সমর্থকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এটি খুবই নাটকীয় একটা খেলা ছিল। একজন ইরানি হিসেবে আমি দলটি সমর্থন করছিলাম না, কারণ আমরা বিশ্বাস করি, এটা ইরানি দল নয়, এটা ইসলামী শাসনের দল।’

অন্য একজন বলেন, ‘আমার তো প্রায় হার্ট অ্যাটাক হয়ে গিয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম আমরা জিতবো, তারপর হারবো, তারপর আবার জিতবো। আর শেষ পর্যন্ত খেলাটা ড্র হলো, যেটা আমাদের জন্য একরকম জয়ের মতোই। তাই না?’

এমন প্রেক্ষাপটে, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৮৫তম স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ড দারুণ খেলে ম্যাচের সপ্তম ও ৫৪তম মিনিটে এলিজাহ জাস্টের জোড়া গোলে এগিয়ে যায়। তবে হার না মানা মনোভাব দেখিয়ে ইরানের রামিন রেজায়িয়ান ও মোহাম্মদ মোহেব্বি গোল করে দলকে সমতায় ফেরান।

আরও পড়ুন:

একজন ইরানি বলেন, ‘কেন নয়? এটা আমাদের অধিকার। চেষ্টা করে আমরা যোগ্যতা অর্জন করেছি সেটাই আসল কথা। এত বছর পর ইরানে আমেরিকার পতাকা আসেনি , কিন্তু ইরানের পতাকা আমেরিকায় গেছে।’

দু’বার পিছিয়ে পড়েও শক্তিশালী এশিয়ান দল হিসেবে শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারায় তেহরানের সমর্থকরা এটিকে দেশের জন্য একটি গৌরবময় লড়াই ও রাজনৈতিক জয় হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।

সমর্থকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমি খুব খুশি ও উচ্ছ্বসিত। খুব গর্বিত। একজন ইরানি হিসেবে অসাধারণ দলটিকে দেখে আমি আনন্দিত। এত কিছুর মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পরও তারা যেভাবে নিজেদের মেলে ধরেছে, তা আমার চোখে আনন্দ ও গর্বের অশ্রু এনে দিয়েছে। একজন ইরানি হিসেবে এই অসাধারণ তরুণদের এমন সব প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেদের মেলে ধরতে দেখাটা বিরাট সম্মানের বিষয়। এখানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত।’

আরও পড়ুন:

যদিও ইরান সরকারের সমালোচক কিছু সমর্থক গোলটি উদযাপন করেন। যাদের অনেকেই ইরানের বিপ্লব-পূর্ববর্তী সিংহ ও সূর্য পতাকা বহন করছিলেন। খেলা শুরুর আগে কেউ কেউ ইরানের জাতীয় সঙ্গীতেও দুয়ো দেন।

কিন্তু তাতে দমে যাননি প্রায় সত্তর হাজার ইরানী সমর্থক। তাদের সবাই চিৎকার করে ইরান! ইরান স্লোগানে দলকে সমর্থন জানাচ্ছিল। খেলার আধা ঘণ্টা পার হবার পরই রামিন রেজাইয়ান গোল করে সমতা ফেরালে তারা উল্লাসে ফেটে পড়ে। এর ১০ মিনিট পর নিউজিল্যান্ড অধিনায়কের দেয়া আরেক গোলের জবাব দিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরায় ইরানের মোহাম্মদ মোহেব্বির।

ম্যাচটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরানি-আমেরিকান ভক্তদের মধ্যকার বিভাজন স্পষ্ট করে দিয়েছে। যাদের অনেকেই বলেছেন, ফুটবল খেলার সবচেয়ে বড় মঞ্চে ইরানকে দেখার গর্ব। আবার কিছু ইরানি-আমেরিকান বলেছেন, ম্যাচটিতে অংশ নেয়ার অর্থ হবে ইরান সরকারের প্রতি সমর্থন জানানো। আরেকদল বলেছে, তারা রাজনীতিকে একপাশে রেখে খেলোয়াড়দের সমর্থন করতে চান।

এসএস