যুদ্ধের দেশে এর আগেও বহুবার ফুটবল বয়ে এনেছিলো সৌন্দর্য্য। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ক্রিসমাসের সন্ধ্যায় জার্মানি আর ইংল্যান্ডের ফুটবল ম্যাচের ইতিহাস এখনও অমলিন। তবে ইরান যেন দুর্ভাগা। বিশ্বকাপের মতো ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের সময়েও যুদ্ধের ক্ষত বয়ে বেড়াতে হচ্ছে দেশটিকে। গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের ম্যাচ খেলার আগে নানা বিধিনিষেধ আর শঙ্কা তাদের মাঝে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আক্রমণের শিকার হয় ইরান। এরপর থেকেই যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে। মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির বিশ্বকাপ খেলা নিয়েই শঙ্কা দেখা দিয়েছিলো।
শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলতে গেলেও মার্কিন ভূমিতে বেজ ক্যাম্প করতে পারেনি তারা। ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে খেললেও ইরান শিবিরের অবস্থান মেক্সিকোর তিহুয়ানায়। আর যুক্তরাষ্ট্রে তারা প্রবেশ করতে পারবে কেবলমাত্র ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে।
মেক্সিকোতে অবশ্য ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছেন ইরানের ফুটবলাররা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে মেক্সিকোর সাধারণ মানুষরা সমর্থন জানাচ্ছেন ইরান দলকে।
আরও পড়ুন:
মেক্সিক্যান এক সমর্থক বলেন, ‘ইরান এখন স্বাগতিক দলের মতো। তাই আমরা আশা করছি, তারা ভালো ফল করবে। আর তাদের প্রতি আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।’
আরেকজন বলেন, ‘তাদেরকে স্বাগত জানানো আমাদের জন্য আনন্দের। আমার মনে হয়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, সেটা খুবই দুঃখজনক। আর আমরা খুবই খুশি যে, বিশ্বকাপের এই সময়ে মেক্সিকোতে তারা সব সমর্থকের ভালোবাসা পাচ্ছে।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে ইরানের ফুটবল দলকে। হোটেলের বাইরে বিক্ষোভে ইরানকে বাদ দেয়ার জন্য ফিফার কাছে দাবি জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘যারা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতাকা এবং জাতীয় সঙ্গীতের প্রতিনিধি, তাদেরকে কীভাবে উৎসাহ দেয়া যায়? এই শাসকরা ৪৭ বছর ধরে ইরানকে দখল করে রেখেছে। সেইসঙ্গে ইরানের সংস্কৃতি এবং সবকিছু ধ্বংস করেছে। সেজন্যই আমরা বিপ্লব করতে চাই এবং ইরানের শাসক বদলাতে চাই।
মাঠের বাইরে এসব চাপ সামলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কেমন করবে ইরান, সেটাই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল দুনিয়া।




