বোলিংয়েও নাহিদ-মোসাদ্দেকদের ছেলেখেলা, ধরাশায়ী অস্ট্রেলিয়া

২১ বছর পর ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া
বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া | ছবি: সংগৃহীত
0

দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে একদিনের ক্রিকেটে হারের স্বাদ দিল বাংলাদেশ। মোসাদ্দেক-শান্ত-তামিমরা ব্যাট হাতে কাজ এগিয়েই রেখেছিলেন, বল হাতে নাহিদ রানা বাকি কাজটুকু করলেন। মোসাদ্দেক বোলিং বিভাগেও রেখেছেন অবদান। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে দাপুটে জয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

'হোম অব ক্রিকেট' খ্যাত মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে এদিনও ব্যর্থ ছিলেন সাইফ হাসান, ৫ রান করে ফেরেন সাজঘরে। দ্বিতীয় উইকেটে দলের হাল ধরেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনের ৯৭ রানের জুটি ভাঙে ৪৪ বলে ৫৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে তামিম বিদায় নিলে। তার আগে সাতটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।

সুবিধা করতে পারেননি লিটন দাস। ৭ রান করে তিনি সাজঘরে ফিরলে শান্তর সাথে হাল ধরেন তাওহীদ হৃদয়। তবে শান্তকেও থামতে হয়, ৬৭ রান করে তিনিও ধরেন সাজঘরের পথ। তার আগে ৮৬ বল মোকাবেলায় নয়টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান।

৬ নম্বরে নেমে হৃদয়কে সঙ্গ দেন মোসাদ্দেক। একপর্যায়ে হৃদয় সংগ্রাম করলেও মোসাদ্দেক ছিলেন আপন ছন্দে। ৫১ বলে ৩১ রান করে হৃদয় বিদায় নিলে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও ছিলেন নড়বড়ে। ১২ বল মোকাবেলা করে মাত্র ৩ রান করতে সমর্থ হন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। তবে মোসাদ্দেক রানের চাকা সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান। মাঝখানে রান রেট কমে গেলেও মোসাদ্দেক পথ হারাতে দেননি। মিরাজের বিদায়ের পর 'ব্যাটার' বনে যান তাসকিন আহমেদও।

আরও পড়ুন:

মোসাদ্দেক-তাসকিনের ব্যাটে ভর করে শেষপর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান দাঁড়ায় বাংলাদেশের সংগ্রহ। ৭০ বলে ৮৬ রান করে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক। সাতটি চারের সাথে হাঁকান তিনটি ছক্কা। এছাড়া ১৬ বলে ২০ রান করেন তাসকিন আহমেদ। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে নাথান এলিস তিনটি এবং লিয়াম স্কট ও ম্যাট রেনশো দু’টি করে উইকেট শিকার করেন।

জবাব দিতে নেমে প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদের শিকার হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে, দলীয় ২ রানে মার্নাস লাবুশেনকে সাজঘরে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। মনোবল না হারিয়ে কুপার কনোলি চেষ্টা করছিলেন বিপর্যয় সামাল দেওয়ার। তবে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের শিকার হয়ে ৩৫ রান করে তিনিও ফেরেন সাজঘরে, দলীয় ৫১ রানে।

এরপর মনোবল আর ব্যাটিং অর্ডার দুই জায়গার ফাটল মেরামতের দায়িত্ব নেন অ্যালেক্স ক্যারি। তবে তার ৬২ বলে গড়া ৪৭ রানের ইনিংস শুধু পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষদিকে একা হয়ে পড়েন ক্যামেরন গ্রিন। নাহিদ রানা একের পর এক আঘাত হানলে দাঁড়ানোই দুরূহ হচ্ছিল সফরকারী ব্যাটারদের জন্য।

৪২.২ ওভারে অজিরা ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান জড়ো করে। গ্রিন ৬৬ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন। এমন সময় বৃষ্টি নামলে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ফলাফল বের করা হয়। তাতে ৮৬ রানে জয়লাভ করে বাংলাদেশ। টাইগারদের পক্ষে নাহিদ রানা চারটি এবং মুস্তাফিজুর রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

এসএস