বিসিবির গঠনতন্ত্র নিয়ে নতুন প্রশ্ন; এনএসসির ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ

বিসিবির নতুন কমিটি
বিসিবির নতুন কমিটি | ছবি: এখন টিভি
0

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গঠনতন্ত্র কি শুধুই একটি কাগজ? নাকি আদতেই কোনো ক্ষমতা রাখে? নতুন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরেই গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে সহ-সভাপতি নিয়োগ দিয়েছেন তামিম ইকবাল। সেই সঙ্গে সরকারি হস্তক্ষেপেও বারবারই গঠনতন্ত্রের আইনকে ফাঁকি দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।

২৮ পৃষ্ঠার গঠনতন্ত্র। তাতে ধারা-উপধারাও অনেক। তবে বছর বছর বারবার আইনভঙ্গ করায় প্রশ্ন উঠেছে- ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্র কি শুধুই কিছু কাগজ। অতীতেও গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে বারবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিসিবি। আবার কখনো কখনো সরকারি আদেশে অসহায় চেয়ে থাকে ক্রিকেট বোর্ডের আইন। স্বাভাবিকভাবেই তাই সমালোচনার কেন্দ্রে বিসিবির ২০১৭ সালের সংশোধিত গঠনতন্ত্র।

রোববার সভাপতি নির্বাচিত হয়েই গঠনতন্ত্রের দুর্বলতা মেনে নিয়েছেন নব-নির্বাচিত সভাপতি তামিম ইকবাল। জানালেন, আলোচনার ভিত্তিতেই কার্যকর পরিবর্তন আনতে চান তিনি।

তামিম ইকবাল বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অবশ্যই এটা নিয়ে অনেক বিতর্কিত, অনেক কিছু হয় বা অনেক কোশ্চেনস আছে। এটা নিয়ে অবশ্যই আমরা, মাত্র আজকে একসঙ্গে বসেছি। আমি যেটা বললাম যে ২৫ জন, হয়তোবা অনেকজনকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। সো, ওনাদের সঙ্গে এটা নিয়ে বসে, যেসব জিনিস করার দরকার, যেগুলা জিনিস সবাই আমরা এগ্রি করি, আমরা ওভাবে করবো।’

আরও পড়ুন:

যদিও দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিনেই গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা করেননি তামিম ইকবাল নিজেই। দু’জন সহ-সভাপতি নিয়োগের বিধান থাকলেও নবনির্বাচিত কমিটিতে সহ-সভাপতি কেবলই ফাহিম সিনহা। বোর্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদের নিয়োগে মানা হয়নি ক্যাটাগরিভিত্তিক বিধিমালাও। এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তামিমকে।

তিনি বলেন, ‘আপনি কি চিন্তা করেন বা আমি কি চিন্তা করি এটা ম্যাটার করে না। বোর্ড মনে করেছে যে এখন আপাতত একজন থাকতে হবে। আর বোর্ডের প্রত্যেকটা মানুষ এটার জন্য হাত তুলে জিনিসটাকে সমর্থন দিয়েছে। এগেইন, আমি আপনাকে আবারও বললাম, এটার মানে না যে আমরা ভবিষ্যতে আরেকজন নেবো না। ওটা ক্যাটাগরি-২ থেকেও হতে পারে, ক্যাটাগরি-৩ থেকেও হতে পারে, যেকোনো ক্যাটাগরি থেকেই হতে পারে। যদি ওটা প্রয়োজন হয়, তাহলে আমরা অবশ্যই নেবো।’

বিসিবির গঠনতন্ত্রের ওপর ছড়ি ঘোরানোর নজির আছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদেরও। ক্রিকেট বোর্ডের নিয়মে না থাকলেও নিজেদের আইনি ক্ষমতায় এখন পর্যন্ত দুইবার বিসিবিতে অ্যাড-হক কমিটি গঠন করেছে এনএসসি।

বিসিবি পরিচালক সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর বলেন, ‘সবগুলো ফেডারেশন কিন্তু, এবং ৬৪ জেলা, আটটা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, এটা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন অধ্যাদেশ ২০১৮ দ্বারা পরিচালিত। এর সবকিছুর ঊর্ধ্বে হচ্ছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। কারণ, আমাদের এই ফেডারেশনগুলোর গভর্নিং বডি হচ্ছে কিন্তু জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একটা বিধিমালা আছে। এই বিধিমালাটা মহান জাতীয় সংসদ দ্বারা অনুমোদিত, পাস করা। ওই গঠনতন্ত্রটাই হচ্ছে এই ফেডারেশনগুলোর পরিচালনার মূল মানদণ্ড।’

তাহলে গঠনতন্ত্র থেকেই বা লাভ কী? গঠনতন্ত্র সংশোধন করলেও, সেটি কতটুকু কার্যকর হবে সেই প্রশ্নও থেকেই যায়।

এসএস