২০২৫ সালের বিপিএল চলাকালেই ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিসিবির তৎকালীন সভাপতি ফারুক আহমেদ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর কমিটি বিসিবির কাছে প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্ট এরপর তুলে দেয়া হয় বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালকে। এরপর যাচাই-বাছাই করে কয়েকজন ক্রিকেটার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার প্রমাণ পান। যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে তদন্তের স্বার্থে কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল বলেন, ‘পাঁচজন ক্রিকেটারকে এ অপরাধের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। তারা বড় ধরনের শাস্তি পেতে যাচ্ছেন।’
আরও পড়ুন
বিপিএল ফিক্সিং ও দুর্নীতিকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন-
অমিত মজুমদার (ক্রিকেটার), ম্যাচে বেটিং বা জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার), ম্যাচের যেকোনো পর্যায়ে বাজি ধরা বা বেটিং করা। মো. লাবলুর রহমান (টিম ম্যানেজার), তদন্তে অসহযোগিতা করা এবং তথ্য বা যোগাযোগ মুছে ফেলে তথ্য প্রমাণ নষ্ট করা। মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ (ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক), তদন্তে অসহযোগিতা এবং ডিমান্ড নোটিশ পালনে ব্যর্থ হওয়া। সামিনুর রহমান (ব্যক্তিগত পক্ষ), একাধিক আসরে খেলোয়াড়দের দুর্নীতির প্রস্তাব দেয়া এবং জুয়াড়িচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা (তাকে বিসিবি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে)।
এছাড়াও বিপিএলের অনিয়ম নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন তামিম ইকবাল। তিনি বলেন, ‘একটি দল ছাড়া বিপিএলে কেউই ব্যাংক গ্যারান্টির নিয়ম মানেনি।’
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টিভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে গিয়ে ১৫-১৬ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন তামিম।
বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি বলেন, ‘বুঝলাম আপনি একটা টুর্নামেন্ট করছেন। আগে এ টুর্নামেন্ট এক সময় লাভ করত। আজ সেই টুর্নামেন্টে ১০ থেকে ১৪, ১৫, ১৬ যা-ই হোক; সঠিক সংখ্যাটা আমি বলতে পারছি না। তবে এরকম কিছু একটা হবে ১৪-১৬ হাজার কোটি টাকার মধ্যে। এভাবে করে আর কয় দিন। আমাদের আরও কিছু করার আছে। আমি জানি না সামনে ইনশা আল্লাহ যদি দায়িত্বে আসি, আমার যেটা ইচ্ছা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি। যদি যথাযথ ফ্র্যাঞ্চাইজি না পাই, তাহলে মনে হয় না বিপিএলটা করা উচিত আমাদের।’





