ক্রিকেট মানেই কি শুধু লর্ডস বা মেলবোর্নের বিশাল স্টেডিয়াম? না, ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে গ্রামের মাঠে, প্রকৃতির কোলে। ব্রিটেনের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টিনন্দন ক্রিকেট মাঠগুলোর গল্প মানুষকে নাড়িয়ে দেয়। যেখানে খেলার সঙ্গে মিশে গেছে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর ঐতিহ্যের স্পর্শ।
এই সব মাঠের কোনোটা সমুদ্রের ঠিক পাশেই, যেখানে বাতাসই হয়ে ওঠে অতিরিক্ত বোলার। কোনোটা আবার পাহাড়ের ঢালে, যেখানে একটি ছক্কা মানেই বল হারিয়ে যাওয়া উপত্যকায়!
আবার কোনো মাঠকে ঘিরে আছে শত বছরের পুরনো গির্জা আর গ্রাম্য কটেজ।
পুরো ইংল্যান্ডজুড়েই আছে বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা ক্রিকেট স্টেডিয়াম। নান্দনিক সৌন্দর্যে ভরা স্টেডিয়ামের তালিকায় প্রথমেই আছে স্কটল্যান্ডের ইলি বীচ। যেখানে সারা বছর ক্রিকেটাররা খেলেন সমুদ্র সৈকতে। মাঠে ঘাসের পরিবর্তে সরাতে হয় কাঁকড়া। ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় উইন্ড বল দিয়ে যা তুমুল বাতাসেও বলের গতিপথ ঠিক রাখে। একপাশে সমুদ্র আরেক পাশে বিচ ক্রিকেট। শেষ পর্যন্ত জিতে যায় প্রকৃতি।
আরও পড়ুন:
ইংল্যান্ডের আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্টেডিয়াম ব্যামবার্গ ক্যাসেল ক্রিকেট ক্লাবের মাঠ। যেখানে আছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ছাপ। মাঠ কর্মীরা দুর্গের ভেতর ঘুমান। আবার সেখান থেকেই উপভোগ করেন ক্রিকেট ম্যাচ।
ওয়ারউইকশায়ারে আছে বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো ক্রিকেট স্টেডিয়াম। তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী ১৬৮৫ সালে প্রথম এই মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ক্রিকেট। ইংল্যান্ডে গুডউড ক্রিকেট ক্লাব মূলত ঘোড় দৌড়ের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু এই ক্রিকেট ক্লাবে আছে ১৭২৭ সালে পুরনো ক্রিকেট আইনের নথি যা আজও ক্লাব হাউজে বিশেষভাবে সংরক্ষিত। নর্থ ডেভনে আছে লিনটন এন্ড লিনমাউথ ক্রিকেট ক্লাব যাকে বলা হয় ভ্যালি অফ রক্স। সমুদ্রের কোল ঘেঁষে বেড়ে উঠা স্টেডিয়ামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন হার মানায় সব কিছুকে।
এগুলো শুধু মাঠ নয় এগুলো একেকটা অঞ্চলের গ্রামের মানুষদের হৃৎস্পন্দন। খেলা চলার ফাঁকে চায়ের কাপ, পাশেই গ্রামের পাব, আর দর্শকদের উচ্ছ্বাস সব মিলিয়ে এক অন্যরকম আবহ
এই স্টেডিয়ামগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় ক্রিকেট শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটা সংস্কৃতি, এটা ঐতিহ্য, এটা আবেগ। বড় স্টেডিয়ামের ঝলকানি পেরিয়ে, গ্রামের এই মাঠগুলোই ধরে রেখেছে ক্রিকেটের শিকড়।
প্রকৃতির কোলে, ইতিহাসের ছায়ায় এভাবেই ব্রিটেনের ব্যতিক্রমী ক্রিকেট মাঠগুলো বলে যায় ক্রিকেটের অনন্য গল্প।





