Recent event

রমজানে যাদের রোজা-নামাজ এমনকি তওবাও কবুল হয় না

যাদের ইবাদত কবুল হয় না
যাদের ইবাদত কবুল হয় না | ছবি: এখন টিভি
0

পবিত্র রমজান মাস (Ramadan) গুনাহ মাফ ও তাকওয়া (Taqwa) অর্জনের এক বিশেষ সুযোগ। মুমিনদের জন্য এ মাসে যেমন অফুরন্ত সওয়াবের দরজা খোলা থাকে, তেমনি মহিমান্বিত এই মাসেই পবিত্র কোরআন নাযিল (Quran Revelation) হয়েছে। কোরআন ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, ইসলামের প্রধান স্তম্ভ রোজা (Fasting) ও নামাজ (Salah) আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে কিছু বিশেষ পাপ ও আচরণের কারণে ৬ ধরনের ব্যক্তির ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। এমনকি এক শ্রেণির মানুষের তওবাও (Repentance) কবুল হয় না বলে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে।

কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা (Instructions of Quran & Sunnah)

সুরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা রমজান মাসে রোজা রাখাকে আবশ্যক করেছেন। পাশাপাশি নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরে সুরা নিসায় বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ। হাদিস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর কাছে যথাসময়ে নামাজ আদায় করা সবচেয়ে প্রিয় আমল। কিন্তু এই মহিমান্বিত মাসেও কিছু মানুষের আমল বিফলে যেতে পারে।

আরও পড়ুন:

ব্যক্তির ধরণ (Category) ইবাদত কবুল না হওয়ার কারণ (Reasons)
মিথ্যাবাদী ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও সে অনুযায়ী আমল বর্জন না করলে রোজা কবুল হয় না।
অবাধ্য স্ত্রী স্বামীর অসন্তুষ্টি নিয়ে রাতযাপনকারী নারীর নামাজ কবুল হয় না।
মদ পানকারী বারবার মদ পান করলে ৪০ দিনের নামাজ ও শেষ পর্যায়ে তওবাও কবুল হয় না।
জ্যোতিষীর ভক্ত গণকের কাছে গিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করলে ৪০ রাতের নামাজ কবুল হয় না।
অপ্রিয় ইমাম ও পলাতক যাকে মুসল্লিরা অপছন্দ করে এবং যে মালিকের কাছ থেকে পালিয়ে যায়।

যাদের ইবাদত কবুল হয় না (Whose Worship is not Accepted)

১. মিথ্যাচার ও ধোঁকাবাজি (Lying and Deceit):

রোজা রেখেও যারা মিথ্যা কথা (Lying) এবং মিথ্যা অনুযায়ী আমল বর্জন করতে পারে না, তাদের পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। সহিহ বুখারির ১৭৮২ নম্বর হাদিসে এ বিষয়ে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:

২. অবাধ্যতা ও অসন্তুষ্টি (Disobedience):

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, পলাতক গোলাম এবং যে নারী তার স্বামীকে অসন্তুষ্ট রেখে রাতযাপন করে (Disobedient Wife), তাদের নামাজ আল্লাহর দরবারে পৌঁছায় না। এছাড়া এমন ইমামের নামাজও কবুল হয় না যাকে তার মুসল্লিরা অপছন্দ করে।

৩. মাদকাসক্তি ও তওবা কবুল না হওয়া (Alcohol and Repentance):

মদ পানকারীর (Alcohol consumption) ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে, মদ পান করলে ওই ব্যক্তির ৪০ দিনের নামাজ কবুল হয় না। তবে কেউ যদি চতুর্থবার এই পাপে লিপ্ত হয়, তবে তার তওবাও কবুল করা হয় না (Repentance not accepted)। পরকালে তাকে জাহান্নামীদের দেহ থেকে নির্গত পুঁজ ও রক্ত পান করানো হবে।

৪. গণক ও জ্যোতিষীর শরণাপন্ন হওয়া (Fortune Tellers):

সহিহ মুসলিমের ৫৬২৭ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি গণক বা জ্যোতিষীর (Astrologer) কাছে যায় এবং কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে, তার ৪০ রাতের নামাজ কবুল হয় না।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, রমজানের রহমত ও মাগফেরাত পেতে হলে আমাদের অবশ্যই এই পাপাচারগুলো থেকে মুক্ত থেকে সহিহভাবে ইবাদত সম্পন্ন করতে হবে।

আরও পড়ুন:



এসআর