Recent event

কোরআনের ব্যাখ্যায় এআই ব্যবহারের সতর্কতা, কেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপজ্জনক হতে পারে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোরআন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোরআন | ছবি: এখন টিভি
0

বর্তমান যুগে দৈনন্দিন কাজে আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) বা এআই প্রযুক্তির ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। তবে ইসলামের সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গা—পবিত্র কোরআনের ব্যাখ্যা বা তাফসির (Tafsir) করার ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন বিশেষজ্ঞ আলেমরা। তারা মনে করেন, যান্ত্রিক মেধার মাধ্যমে ঐশ্বরিক বাণীর বিধান আহরণ করা ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী অনুমোদিত নয়।

যোগ্যতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও ধর্মীয় বৈধতা
বৈশিষ্ট্য (Criteria) যোগ্য মুফাসসির (Human Scholar) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI Model)
জ্ঞানের গভীরতা আরবি ভাষা, নাহু-সরফ, বালাগাত ও ১৫টি শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য। ইন্টারনেটের তথ্যের ভিত্তিতে কেবল শব্দ সাজানোর ক্ষমতা।
আধ্যাত্মিক চেতনা আল্লাহভীতি, আমল এবং আধ্যাত্মিক ইনসাফ বিদ্যমান। যান্ত্রিক প্রোগ্রামিং; কোনো আধ্যাত্মিক অনুভূতি নেই।
সনদ বা পরম্পরা ওস্তাদ থেকে ছাত্রের ধারায় প্রাপ্ত নির্ভুল ‘সনদ’ বা উৎস। অনির্ভরযোগ্য ও যাচাইহীন তথ্যের সংমিশ্রণ থাকতে পারে।
শরিয়াহর সূক্ষ্মতা নাজিলের প্রেক্ষাপট (শান-এ-নুজুল) ও মাসআলা অনুধাবন। অনুবাদ করতে পারলেও আইনি বা সূক্ষ্ম বিধান আহরণে অক্ষম।
ফল ও নির্ভরযোগ্যতা নির্ভরযোগ্য এবং এর ভুল হলে ইজতিহাদ হিসেবে গণ্য। অনুমাননির্ভর এবং বিভ্রান্তিকর হওয়ার ঝুঁকি ১০০%।

পাণ্ডিত্য বনাম যান্ত্রিক মেধা (Scholarship vs Artificial Intelligence)

কোরআনের তাফসির করা কোনো সাধারণ কাজ নয়। মিসরের বিখ্যাত ফতোয়া প্রতিষ্ঠান ‘দার আল-ইফতা’ (Dar al-Ifta al-Misriyyah) জানিয়েছে, একজন মুফাসসির বা ব্যাখ্যাকারীর জন্য আরবি ভাষা, ব্যাকরণ (Nahu-Sarf), অলংকারশাস্ত্র (Balagat) এবং হাদিস শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। অন্যদিকে, একটি এআই মডেল (AI Model) কেবল ইন্টারনেটে থাকা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শব্দ সাজায়। তার কোনো আধ্যাত্মিক সচেতনতা বা শরিয়াহর সূক্ষ্ম প্যাঁচগুলো বোঝার ক্ষমতা নেই। ফলে এর মাধ্যমে অপব্যাখ্যা (Misinterpretation) এবং বিকৃত অর্থ ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে।

আরও পড়ুন:

সনদ ও নির্ভরযোগ্য পরম্পরা (Chain of Tradition - Sanad)

ইসলামি জ্ঞানার্জনের মূল ভিত্তি হলো ‘সনদ’ (Sanad) বা নির্ভরযোগ্য পরম্পরা। যুগ যুগ ধরে আলেমরা এক প্রজন্মের কাছ থেকে অন্য প্রজন্মে এই জ্ঞান নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু এআই-এর ক্ষেত্রে এই বিশ্বস্ততার শৃঙ্খল অনুপস্থিত। এ প্রসঙ্গে কোরআনে সতর্ক করা হয়েছে, “যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না।” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৩৬)।

সঠিক পদ্ধতি কোনটি? (Reliable Methods of Learning)

কোরআনের কোনো আয়াতের মর্মার্থ বুঝতে চাইলে সুপ্রতিষ্ঠিত তাফসির গ্রন্থ (Tafsir Books) এবং নির্ভরযোগ্য আলেমদের শরণাপন্ন হতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তিকে কেবল শব্দার্থ খোঁজা বা আয়াতের দ্রুত তল্লাশির জন্য টুল (Tool) হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু একে শিক্ষক বা ব্যাখ্যা প্রদানকারী হিসেবে গ্রহণ করা বিপজ্জনক।

জাহান্নামের সতর্কতা (Warning against Personal Opinion)

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি না জেনে কোরআন সম্পর্কে নিজের রায় বা মত প্রদান করে, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।” (সুনান তিরমিজি, হাদিস: ২,৯৫১)। তাই প্রযুক্তির এই যুগেও পবিত্র কোরআনের সঠিক দিশা পেতে প্রামাণ্য কিতাব ও বিদ্বানদের (Islamic Scholars) দ্বারস্থ হওয়া অপরিহার্য।

আরও পড়ুন:

বিশুদ্ধ ইসলামি জ্ঞানার্জনের নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহ
তাফসিরের নাম (Name) লেখক (Author) প্রধান বৈশিষ্ট্য (Key Features)
তাফসিরে ইবনে কাসির হাফেজ ইবনে কাসির (রহ.) কোরআন ও হাদিস ভিত্তিক ব্যাখ্যার জন্য বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক সমাদৃত।
তাফসিরে জালালাইন জালালুদ্দিন সুয়ুতি ও জালালুদ্দিন মহল্লি (রহ.) সংক্ষিপ্ত কিন্তু অতি গভীর অর্থবোধক; কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার পাঠ্য।
তাফসিরে মাআরিফুল কোরআন মুফতি শফি (রহ.) আধুনিক মাসআলা ও তাত্ত্বিক আলোচনার জন্য বাংলা ভাষাভাষীদের নিকট শ্রেষ্ঠ।
তাফসিরে তাবারী ইমাম ইবনে জারীর তাবারী (রহ.) তাফসিরের জননী বলা হয়; সবচেয়ে প্রাচীন ও বর্ণনামূলক নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ।
তাফসিরে কুরতুবী ইমাম কুরতুবী (রহ.) কোরআনের আইনি বিধান বা ফিকহী মাসআলা বোঝার জন্য প্রধান উৎস।

আরও পড়ুন:

এসআর