পাণ্ডিত্য বনাম যান্ত্রিক মেধা (Scholarship vs Artificial Intelligence)
কোরআনের তাফসির করা কোনো সাধারণ কাজ নয়। মিসরের বিখ্যাত ফতোয়া প্রতিষ্ঠান ‘দার আল-ইফতা’ (Dar al-Ifta al-Misriyyah) জানিয়েছে, একজন মুফাসসির বা ব্যাখ্যাকারীর জন্য আরবি ভাষা, ব্যাকরণ (Nahu-Sarf), অলংকারশাস্ত্র (Balagat) এবং হাদিস শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। অন্যদিকে, একটি এআই মডেল (AI Model) কেবল ইন্টারনেটে থাকা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শব্দ সাজায়। তার কোনো আধ্যাত্মিক সচেতনতা বা শরিয়াহর সূক্ষ্ম প্যাঁচগুলো বোঝার ক্ষমতা নেই। ফলে এর মাধ্যমে অপব্যাখ্যা (Misinterpretation) এবং বিকৃত অর্থ ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে।
আরও পড়ুন:
সনদ ও নির্ভরযোগ্য পরম্পরা (Chain of Tradition - Sanad)
ইসলামি জ্ঞানার্জনের মূল ভিত্তি হলো ‘সনদ’ (Sanad) বা নির্ভরযোগ্য পরম্পরা। যুগ যুগ ধরে আলেমরা এক প্রজন্মের কাছ থেকে অন্য প্রজন্মে এই জ্ঞান নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু এআই-এর ক্ষেত্রে এই বিশ্বস্ততার শৃঙ্খল অনুপস্থিত। এ প্রসঙ্গে কোরআনে সতর্ক করা হয়েছে, “যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না।” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৩৬)।
সঠিক পদ্ধতি কোনটি? (Reliable Methods of Learning)
কোরআনের কোনো আয়াতের মর্মার্থ বুঝতে চাইলে সুপ্রতিষ্ঠিত তাফসির গ্রন্থ (Tafsir Books) এবং নির্ভরযোগ্য আলেমদের শরণাপন্ন হতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তিকে কেবল শব্দার্থ খোঁজা বা আয়াতের দ্রুত তল্লাশির জন্য টুল (Tool) হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু একে শিক্ষক বা ব্যাখ্যা প্রদানকারী হিসেবে গ্রহণ করা বিপজ্জনক।
জাহান্নামের সতর্কতা (Warning against Personal Opinion)
আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি না জেনে কোরআন সম্পর্কে নিজের রায় বা মত প্রদান করে, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।” (সুনান তিরমিজি, হাদিস: ২,৯৫১)। তাই প্রযুক্তির এই যুগেও পবিত্র কোরআনের সঠিক দিশা পেতে প্রামাণ্য কিতাব ও বিদ্বানদের (Islamic Scholars) দ্বারস্থ হওয়া অপরিহার্য।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:





